গতকাল রাজধানীর সিরডাপ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা অর্জনের জন্য কার্যকর অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচি’ শীর্ষক নীতিগত সংলাপে তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ রোড টু ইউনিভার্সাল হেলথ কাভারেজ নিউ ডায়ালগ সিরিজ ২০২৬-এর অংশ হিসেবে আয়োজিত সংলাপের যৌথ আয়োজক ছিল পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার ও ইউএইচসি ফোরাম। এতে সহায়তা করে ইউনিসেফ।
সংলাপে বক্তারা স্বাস্থ্য খাতের রূপান্তরে সরকারের নতুন প্রতিশ্রুতির প্রেক্ষাপটে অংশগ্রহণকারীরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করা, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ব্যয়ের চাপ কমানো, স্বাস্থ্য খাতে মানবসম্পদ ও সেবা প্রদানের ঘাটতি দূর করা এবং ইউএইচসি অগ্রগতির কার্যকর পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করার বিষয়গুলোকে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেন।
আলোচনায় বাংলাদেশে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা অগ্রগতির জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার বিষয় সামনে আসে। অংশগ্রহণকারীরা কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতে কার্যকর নিয়ন্ত্রক তদারকি নিশ্চিত করা এবং সংস্কার বাস্তবায়নে বিদ্যমান আমলাতান্ত্রিক প্রতিবন্ধকতা কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
স্বাস্থ্য খাতের অর্থায়ন ও সুশাসনের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। অংশগ্রহণকারীরা স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো, ক্রয় ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং বিপুলসংখ্যক শূন্যপদ পূরণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সংলাপে ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা উন্নত করা এবং গবেষণালব্ধ প্রমাণকে কার্যকরভাবে নীতিনির্ধারণে ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। অংশগ্রহণকারীরা উল্লেখ করেন, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট সংস্কার রোডম্যাপ, দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং সরকার, গবেষক ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।
এ অগ্রাধিকার বিষয়গুলোর পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এমএ মুহিত স্বাস্থ্য খাতে সংস্কার এগিয়ে নেয়া এবং গবেষণা ও নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, সরকারের অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ই-হেলথ কার্ড চালুর পরিকল্পনা, স্বাস্থ্য খাতে শূন্যপদগুলো ধাপে ধাপে পূরণ করা এবং পাবলিক–প্রাইভেট পার্টনারশিপ শক্তিশালী করা। তিনি বিশেষভাবে স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের উপস্থিতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্বও তুলে ধরেন।
সমাপনী বক্তব্যে পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান স্বাস্থ্য খাতে সংস্কার অগ্রগতিতে সরকার, গবেষক ও নীতি বিশ্লেষকদের মধ্যে ধারাবাহিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নয়নে সমতা, পুষ্টি ও অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।’
পাশাপাশি ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা এবং স্বাস্থ্য খাতে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘কেবল আর্থিক বিনিয়োগ বাড়ালেই হবে না, মানুষকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় একটি যত্নশীল মানসিকতার বিকাশও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।’










