পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা ২০২৩-এ শিল্প-কারখানা থেকে পরিশোধনযোগ্য নির্গত ক্ষতিকারক বিওডির মাত্রা ৫০ থেকে কমিয়ে ৩০ মিলিগ্রাম প্রতি লিটার করা হয়েছে। শিল্প-কারখানাগুলোকে তাদের ইটিপিগুলো (ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট) সংস্কার করতে হবে। নতুন আইনে বিওডির মাত্রা কমে যাওয়ায় অধিকাংশ কারখানার ইটিপি সংস্কার করতে হবে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে ১৯৯৭ সালের আইনের অনেক পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন আইনের কারণে অনেক কারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির পরিবর্তন করতে হবে। নিয়ম মেনে ইটিপি পরিচালনা যেমন কার্যকর হবে, তেমনি শিল্প-কারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা হবে আধুনিকায়ন। এতে সার্বিকভাবে পরিবেশ রক্ষা পাবে।

চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চট্টগ্রাম মহানগরীতে ছোট-বড় মিলিয়ে ইটিপি প্রয়োজন হয় এমন কারখানার সংখ্যা ২৮৯, যার মধ্যে ২৬৭টি প্রতিষ্ঠান ইটিপির সঙ্গে যুক্ত আছে। তবে ২২টি প্রতিষ্ঠান এখনো তাদের কারখানায় ইটিপি স্থাপন করতে পারেনি। এদিকে ২৬৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪০টি আবার সিইটিপির (কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার) সঙ্গে যুক্ত। যে ১৪০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান সিইটিপির সঙ্গে যুক্ত তার বেশির ভাগেরই নিজস্ব ইটিপি নেই। এ কারণে সিইটিপি আধুনিকায়ন থাকার কথা থাকলেও চট্টগ্রাম মহানগরীর সিইটিপি এতটা পরিবেশবান্ধব নয়। এদিকে চট্টগ্রাম জেলায় ছোট-বড় শিল্প-কারখানার সংখ্যা তিন শতাধিক। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশের বেশি প্রতিষ্ঠান ইটিপি বা এসটিপির সঙ্গে যুক্ত।

সিইপিজেডের দেড় শতাধিক ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান তাদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সিইটিপির সঙ্গে সংযুক্ত। তবে এ সিইপিজেডে স্থাপিত সিইটিপির তরল বর্জ্য পরিশোধনক্ষমতা একবারেই পরিবেশবান্ধব নয়। এ কারণে প্রতি বছরই তাদের বড় অংকের জরিমানা করে পরিবেশ অধিদপ্তর। এমনকি অপরিশোধিত তরল বর্জ্য সমুদ্রে ফেলার বিষয়ে বারবার নিষেধাজ্ঞা দেয়া হলেও তারা সে নিয়ম মানেনি। অন্যদিকে সিইপিজেডের কারখানাগুলোর মধ্যে অনেক কারখানা আছে যার ইটিপিও মানমাত্রা অনুযায়ী স্থাপন করা হয়নি।

পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা ২০২৩-এর তফসিল-৪-এর শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের তরল বর্জ্য নির্গমনের মানমাত্রা (বিধি ৩২ দ্রষ্টব্য) অংশে বলা হয়েছে, বিওডি ২০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে তরল বর্জ্য মিশ্রিত পানি ৩০ মিলিগ্রাম প্রতি লিটারে নির্গমন করতে পারবে। সেখানে যদি প্রতিষ্ঠানটি দ্বিতীয় পর্যায়ে এসটিপি বা কেন্দ্রীয় তরল বর্জ্যের আওতায় থাকে তাহলে ২৫০ মিলিগ্রাম প্রতি লিটারে পরিশোধন করতে পারবে।

চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (মহানগর) মিয়া মাহমুদুল হক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘নতুন পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা অনুযায়ী চট্টগ্রামের শিল্প-কারখানাগুলোয় ইটিপি বা তরল বর্জ্য শোধন প্রক্রিয়া আছে, সেগুলো সংস্কার করতে হবে। শিল্প-কারখানার তরল বর্জ্য নির্গমনে নতুন আইন অনুযায়ী নকশাগুলো সংস্কার করতে হবে। এতে চট্টগ্রামে অবস্থিত বেশির ভাগ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ইটিপি নতুন করে পুনর্নির্মাণ করতে হবে। আমরা শিল্প-কারখানাগুলোকে নোটিস দিয়ে বিষয়টি অবহিত করব। তবে সেক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবশ্যই সময়সীমা দেয়া হবে।’

পরিবেশবিদ ইদ্রিশ আলী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘নতুন পরিবেশ আইনে পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। শিল্প-কারখানা বা অনান্য প্রতিষ্ঠানের পরিবেশগত দিক বিবেচনা করে যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, সেটি পরিবেশের জন্য সহায়ক। পরিশোধিত তরল বর্জ্যের ক্ষেত্রে ক্ষতিকারক বিওডি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্বাভাবিক মাত্রার বাইরে বিওডি তরল বর্জ্যের সঙ্গে মিশলে সেটি পরিবেশের জন্য খুবই ক্ষতিকারক। সেজন্য নতুন আইন অনুযায়ী বিওডির মাত্রা ইটিপিতে কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত যুগোপযোগী।’