সরকার গঠনের চার কার্যদিবসের মধ্যেই এ কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়নে ১৫ সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, দুই মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রীসহ ১৫ সদস্যের ফ্যামিলি কার্ড প্রদান-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গঠিত এ কমিটিতে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সচিবরা সদস্য হিসেবে রয়েছেন। কমিটিকে আগামীকালের মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাদের সাচিবিক সহায়তা দেবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীকে কমিটিতে রাখা হয়েছে। উপদেষ্টাদের মধ্যে রয়েছেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, মাহ্দী আমিন ও রেহান আসিফ আসাদ। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ সচিবদের মধ্য থেকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, অর্থ বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবকেও কমিটির সদস্য করা হয়েছে।

গঠিত কমিটি উপযুক্ত ডিজাইন ও সুবিধাভোগী নির্বাচন পদ্ধতি প্রণয়ন করবে। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের প্রতিটি বিভাগ থেকে একটি করে মোট আটটি উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড প্রবর্তনের ব্যবস্থা গ্রহণ, নারীদের জন্য বিদ্যমান অন্য কোনো কার্ডকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যায় কিনা তা পর্যালোচনা এবং সুবিধাভোগীদের ডেটাবেজ প্রণয়নের লক্ষ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র ও ন্যাশনাল হাউজহোল্ড ডেটাবেজের আন্তঃসংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে ডিজিটাল এমআইএস প্রণয়নের সুপারিশ করবে কমিটি। আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের লক্ষ্যে আগামীকালের মধ্যে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রণয়ন করবে তারা।

জাতীয় নির্বাচনের আগে দেয়া দলীয় ইশতাহারে বিএনপি বলেছিল, খালেদা জিয়া নারীদের শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছিলেন। এখন বিএনপি তাদের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে চায়। সেই লক্ষ্যে পরিবারের নারী প্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করবে দলটি। প্রায় চার কোটি প্রান্তিক পরিবারের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ দরিদ্র গ্রামীণ পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে বলে ইশতাহারে উল্লেখ করেছিল তারা। সেই আলোকে এ কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারকে মাসে ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা অথবা চাল, ডাল, তেল, লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করে খাদ্য সুবিধা দেয়া হবে। পর্যায়ক্রমে এ সেবার পরিমাণ সম্প্রসারণের কথাও ইশতাহারে উল্লেখ করেছিল বিএনপি।

সরকার গঠনের পর পরই ইশতাহারে দেয়া প্রতিশ্রুতির আলোকে ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, শুরুতে আট বিভাগ থেকে একটি করে উপজেলা নির্বাচন করে এ কর্মসূচির পাইলটিং করা হবে। উচ্চ দারিদ্র্য, নদীভাঙন, উপকূলীয়, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ, হাওর এলাকা, মৌসুমি খাদ্য অনিরাপত্তা অঞ্চল বিবেচনা করে এসব উপজেলা নির্ধারণ করা হবে। এছাড়া দুর্গম পার্বত্য এলাকা, চরাঞ্চল, ঘূর্ণিঝড়প্রবণ, উচ্চ জনঘনত্ব, গ্রামীণ, মৌসুমি শ্রমিকনির্ভর, সেমি আরবান ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীকেও বিবেচনায় রাখা হবে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন জানিয়েছেন, মন্ত্রিসভা কমিটি এ বিষয়ে গুরুত্বসহকারে কাজ করছে এবং শিগগিরই এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘আমরা আগামী ২৪ তারিখ প্রতিবেদন জমা দেব। প্রাথমিকভাবে আটটি উপজেলা আমাদের আলোচনায় এসেছে, তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য পর্যালোচনা করে আমরা আটটি উপজেলা নির্বাচন করব। প্রাথমিকভাবে তাদের নিয়েই প্রকল্পটি চালু করা হবে।’

প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ পরিবারকে এ কার্ডের আওতায় ২ হাজার টাকা করে দিতে হলে সরকারকে মাসে ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে। সে হিসাবে ৫০ লাখ পরিবারের জন্য বছরে সরকারের ব্যয় হবে ১২ হাজার কোটি টাকা।