জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন নিয়ে আন্দোলন ও বিক্ষোভ চলছে ক্যাম্পাসজুড়ে। কিন্তু প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ ও হতাশা। রাকসু নির্বাচন ঘিরে আলোচনা তীব্র হলেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। রোডম্যাপে একাধিকবার তারিখ নির্ধারণ করা হলেও তফসিল ও খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ফলে নির্বাচনের সম্ভাবনা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে ফেব্রুয়ারিতে জানানো হয়েছিল, ১৩ এপ্রিল চূড়ান্ত বিধিমালা ও নির্বাচনী আচরণবিধি প্রকাশ, ২৯ এপ্রিল নির্বাচনের খসড়া ভোটার তালিকা, ৩০ জুন রাকসুর তফসিল ঘোষণা ও জুনের তৃতীয় বা চতুর্থ সপ্তাহে রাকসু নির্বাচন হবে। নির্বাচন কমিশন এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল বিভিন্ন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক সংগঠনের সঙ্গে রাকসু নিয়ে আলোচনা করেছে। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো ভোটার তালিকা প্রণয়ন এবং তফসিল ঘোষণা হয়নি। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হলে ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক ধারা থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্র ইউনিয়নের (একাংশ) সভাপতি রাকিব হোসেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়কে লেজুড়বৃত্তিক ছাত্র রাজনীতির বেড়াজাল থেকে মুক্তি এবং শিক্ষার্থীদের যথাযথ অধিকার আদায়ের মাধ্যম রাকসু। নির্বাচন হলে কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো ভালোভাবে উঠে আসবে। আগের প্রশাসনগুলো সরকারের ইশারায় চলত। কিন্তু আমার মনে হয় বিপ্লবের পর যে প্রশাসন এসেছে, তারা রাকসু নির্বাচন দেয়ার ব্যাপারে আগ্রহী।’

সবশেষ গত ৩০ জুন তফসিল ঘোষণা করার কথা ছিল। এ ব্যাপারে রাকসুর নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল আকন্দ জানান, ‘আমাদের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে; তবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বসতে চাই। উপাচার্য ক্যাম্পাসের বাইরে থাকায় এখনো সেটি সম্ভব হয়ে ওঠেনি। এজন্য তফসিল ঘোষণা করা হচ্ছে না।’