ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিনেটে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনে আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দল জয়লাভ করেছে। ৩৫টি পদের মধ্যে ৩২টি পদে নীল দলের প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে বিএনপি-জামায়ত সমর্থিত সাদা দল থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ৩ জন। গতকাল মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টায় এ নির্বাচনের ফল আনুষ্ঠনিকভাবে প্রকাশ করেন নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মমতাজ উদ্দিন আহমেদ।
ওইদিন সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। পাঁচ বছর পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দল আর জামায়াত-বিএনপিপন্থী সাদা দল অংশ নেয়। নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে একাধিক শিক্ষক-ভোটারা বণিক বার্তাকে জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে সহযোগিতা করায় সকলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন কমিশনার মমতাজ উদ্দিন আহমেদ। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, মোট ১ হাজার ৩৪৬টি ভোট কাস্ট হয়। এরমধ্যে ৪৩টি ভোট বাতিল করা হয় এবং ১ হাজার ৩০৩টি ভোট কাউন্ট করা হয়। তিনি আরো বলেন, নির্বাচিতদের তালিকা উপাচার্য বরাবর পাঠানো হয়েছে। উপাচার্যের স্বাক্ষরের মাধ্যমে নির্বাচিতদের নাম চূড়ান্ত হবে। আগামী ১৬ জুন থেকে আগামী তিন বছরের জন্য তারা দায়িত্ব প্রাপ্ত হবেন বলেও তিনি জানান।
নীল দল থেকে নির্বাচিত শিক্ষকরা হলেন, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আ ক ম জামাল উদ্দিন, টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু জাফর মো. শফিউল আলম ভূঁইয়া, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল বাছির, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ইশতিয়াক এম সৈয়দ, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম মাহবুব হাসান, ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি ও ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এস এম আব্দুর রহমান, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক কে এম সাইফুল ইসলাম খান, গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. চন্দ্র নাথ পোদ্দার, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ড. জিনাত হুদা, আবহাওয়া বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. তৌহিদা রশীদ, অঙ্কন ও চিত্রায়ন বিভাগের অধ্যাপক নিসার হোসেন, ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ, ভাষা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ফিরোজা ইয়াসমিন, উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মিহির লাল সাহা, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুর রশিদ।
এছাড়া অর্গানাইজেশন স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড লিডারশিপ বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ আব্দুল মঈন, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. ফিরোজ জামান, পপুলেশন সাইন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. বিল্লাল হোসেন, ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান, ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আকরাম হোসেন, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুর রহিম, ফলিত গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুস সামাদ, ডিজেস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জিল্লুর রহমান, ক্রিমিনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান, পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূঁইয়া, মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মাসুদুর রহমান, অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান, শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম, ফলিত গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম, রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. লাফিফা জামাল, ভাষা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শিকদার মনোয়ার মোর্শেদ, আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. সীমা জামান, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু। সাদা দল থেকে নির্বাচিত তিন প্রতিনিধি হলেন অধ্যাপক লুৎফর রহমান, অধ্যাপক ড. এবিএম ওবাইদুল ইসলাম ও অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।
প্রসঙ্গত, ঢাবির সিনেটে ১০৫ জন সদস্যের মধ্যে শিক্ষক-প্রতিনিধির ৩৫টি। অন্য সদস্যরা হলেন- উপাচার্য, দুই উপ-উপাচার্য (শিক্ষা ও প্রশাসন), কোষাধ্যক্ষ, সরকার মনোনীত পাঁচজন সরকারি কর্মকর্তা, জাতীয় সংসদের স্পিকার মনোনীত পাঁচজন সংসদ সদস্য, আচার্য মনোনীত পাঁচজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সিন্ডিকেট মনোনীত গবেষণা সংস্থার পাঁচজন প্রতিনিধি, একাডেমিক কাউন্সিল মনোনীত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ও উপাদানকল্প কলেজগুলোর পাঁচজন অধ্যক্ষ, একাডেমিক কাউন্সিল মনোনীত অধিভুক্ত ও উপাদানকল্প কলেজগুলোর ১০ জন শিক্ষক, উচ্চমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, ২৫ জন রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি এবং ডাকসু মনোনীত পাঁচজন শিক্ষার্থী-প্রতিনিধি। তবে ডাকসু'র প্রতিনিধি না থাকায় তিন বছর পর এবার শিক্ষার্থী-প্রতিনিধি শূন্য হতে যাচ্ছে সিনেট।










