নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সবাইকে ঘরে থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। তবে মশার যন্ত্রণায় সিলেট নগরবাসীর ঘরে থাকার উপায় নেই। বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর থেকে মশার উপদ্রব আরো বেড়েছে। ফলে করোনা আতঙ্কের মধ্যেই উঁকি দিচ্ছে ডেঙ্গুর শঙ্কা। এদিকে নভেল করোনাভাইরাসের কারণে নগরীতে পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রম থমকে আছে। এর ফলে মশার বিস্তার ঠেকানো যাচ্ছে না বলে মনে করছে নগরবাসী। এ নিয়ে চিন্তিত সিটি করপোরেশন ও স্বাস্থ্যবিদরাও।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নগরীর সবক’টি ওয়ার্ডেই মশার উপদ্রব বেড়েছে। মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে নগরবাসী। দীর্ঘদিন পর ১৬ এপ্রিল থেকে আবার বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় যত্রতত্র পানি জমে মশা আরো বাড়ছে। অথচ গত ৩১ মার্চ গণভবন থেকে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘মশার হাত থেকে মানুষকে বাঁচানোর জন্য এখন থেকেই যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার’
নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে সেই নির্দেশনা সিলেটে এখন পর্যন্ত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, মশার উপদ্রব নিয়ে আমি নিজেও মেয়র মহোদয়ের সঙ্গে আলাপ করেছি। বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। এখনই মশা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। এমনিতেই করোনা নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে, তার ওপর ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। মশার আবাসস্থল ধ্বংস করতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করার পক্ষে মত দেন তিনি।
সিলেট সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, মশক নিধনে সিলেট সিটি করপোরেশনের কোনো বরাদ্দ না থাকলেও চলতি মৌসুমে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ওষুধ কেনা হয়েছে। ওষুধ ছিটানোর আগে মশার আবাসস্থল ধ্বংস করার জন্য নালা, নর্দমা ও ছড়ায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার কথা থাকলেও তা এখনো শুরুই হয়নি। ফলে সীমিত পরিসরে নগরীতে মশার ওষুধ ছিটানো শুরু হলেও তা কোনো কাজে আসছে না। নগরীর অনেক এলাকায় ড্রেন-কালভার্ট নির্মাণাধীন থাকায় ড্রেন ও ছড়ার পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। আর জমে থাকা ময়লা পানিতে মশা বংশবিস্তার করছে।
নগরীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল হামিদ টিটু জানান, আমাদের এলাকায় মশার উৎপাত ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। আগে সন্ধ্যা হলে মশার উপদ্রব থাকলেও এখন সারা দিনই মশার উৎপাত। ঘরের জানালা খোলা যায় না। গরম আর মশার উৎপাতে দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছি। মশার কারণে ঘরে থাকাই দায় হয়ে উঠেছে। আবার এ সময়ে বাইরেও বের হতে পারছি না।
সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মশার ওষুধ ছিটানোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওষুধ ছিটানোর পর মশার উপদ্রব কিছুটা কমলেও দুদিন পর আবার উপদ্রব বেড়ে যায়। ড্রেন-ছড়া পরিষ্কার করা হয়নি বলেই মশার উপদ্রব কমছে না।
এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, নগরীতে এক মাস ধরেই মশার ওষুধ ছিটানোর কাজ চলমান রয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে ছয়জন করে কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন এ কাজে। তবে তা কোনো কাজে আসছে না স্বীকার করে তিনি বলেন, আমরা পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করতে পারিনি এখনো। আর তাই কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না মশার উপদ্রব।
ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা খুব তাড়াতাড়ি পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করব। তবে এর পাশাপাশি নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে। সবাইকে তাদের বাড়ির আশপাশের নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখতে হবে। ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। এতে মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা পাবে নগরবাসী।
এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, এ সমস্যাটি আমি নিজেও অনুধাবন করছি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সবার মধ্যে কিছুটা ভয়ভীতি কাজ করছে। নগরীর পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মনেও ভীতির সঞ্চার হয়েছে। কাজে আসার পথে তাদের বিভিন্ন বাধারও সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এ অবস্থায় অনেকেই কাজে আসতে চাচ্ছেন না। তবে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে এবং কয়েকজন কাজে আসবে বলেও জানিয়েছেন। তাদের নিয়ে আমরা ছয়টি টিম করেছি। আগামী সপ্তাহ থেকেই তারা মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেবেন।
তিনি বলেন, মশার ওষুধের জন্য আমরা যে চাহিদাপত্র দিয়েছিলাম, তার সরবরাহ পুরোপুরি আমাদের হাতে এসে পৌঁছায়নি। এটিও কাজ শুরুতে দেরি হওয়ার একটা অন্যতম কারণ। তবে কিছু ওষুধ আমরা আগে থেকে স্টক করে রেখেছিলাম, যা কয়েকটি এলাকায় ছিটানো হচ্ছে।










