কুষ্টিয়া-৪ (খোকসা-কুমারখালী) স্বতন্ত্র
প্রার্থী আব্দুর রউফের সমর্থকদের ওপর একের পর এক হামলার অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে অব্যাহত
রয়েছে নির্বাচনী অফিস ভংচুর। এসব ঘটনায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সেলিম আলতাফ জর্জের সমর্থকদের
দায়ী করা হচ্ছে।
এরই মধ্যে কয়েকটি ঘটনায় দায়ের হয়েছে
মামলা ও গ্রেফতার হয়েছেন কয়েকজন। এছাড়া একটি ঘটনায় নৌকা প্রার্থীর এক সমর্থকের জেল-জরিমানা
হয়েছে।
সর্বশেষ অভিযোগে বলা হয়, গতকাল শনিবার
(২৩ ডিসেম্বর) রাতে খোকসা উপজেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী অফিস ভাংচুর হয়েছে।
পুলিশ ও প্রার্থী সূত্রে জানা গেছে,
তফসিল ঘোষণার পর থেকে আজ রোববার সকাল পর্যন্ত এই আসনে মোট ছয়টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।
একইসঙ্গে ঘটেছে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও হামলা। স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রায় আটটি নির্বাচনী
ক্যাম্প ভাংচুর হয়েছে। তবে নৌকা প্রার্থীর কোনো অফিস ভাংচুরের খবর পাওয়া যায়নি।
গতকাল শনিবার রাতে স্বতন্ত্র প্রার্থী
আব্দুর রউফের ট্রাক প্রতীকের নির্বাচনী অফিস ভাংচুর হয়েছে। উপজেলার একতারপুর বাজারে
এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সন্ধ্যার পরে
দেশীয় অস্ত্রসহ ৩০-৪০ জন দুর্বৃত্ত এসে নির্বাচনী অফিস ভেঙে দেয়। হামলায় নেতৃত্ব দেন
নৌকার প্রার্থী সেলিম আলতাফ জর্জের সমর্থক একতারপুর ইউনিয়নের মজিদ চেয়ারম্যান। এসময়
অফিসের চেয়ার-টেবিল ভাংচুর করা হয়।
এ ব্যাপারে খোকসা থানার ওসি আননুর যায়েদ
জানান, ঘটনা সম্পর্কে অবহিত হয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানাবেন।
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমারখালীর
বহলবাড়িয়ায় নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকদের মধ্যে সংঘর্ষে ছয়জন আহত হন। এদিন স্বতন্ত্র
প্রার্থীর একটি নির্বাচনী ক্যাম্প ভাংচুর করা হয়।
কুমারখালী থানার ওসি আকিবুল ইসলাম ওই
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। তিনজন
আটকও হয়েছেন।
গত ২০ ডিসেম্বর কুমারখালীর নন্দলালপুরে
স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রউফের নির্বাচনী কার্যালয়ে উদ্বোধনী সভায় জেলা আওয়ামী লীগের
নেতা ও কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক জাহিদ হোসেন জাফরের ওপর হামলা এবং কুমারখালী
আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান খানের গাড়ি ভাংচুর
করা হয়। এ ঘটনায় নৌকার সমর্থক এক ইউপি সদস্যকে একদিনের জেল ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা
করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এর আগে ১৮ ডিসেম্বর আমলাবাড়ীতে স্বতন্ত্র
প্রার্থী রউফের অফিস ভাংচুর ও পোস্টার ছিড়ে ফেলা হয়। ১৪ ডিসেম্বর খোকসার ধোকড়াকোল কলেজ
মোড়ে নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হন সাতজন। এসময় উভয়পক্ষ
দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে।
মাসের শুরুতে ৫ ডিসেম্বর কুমারখালী
শহরে আব্দুর রউফের কর্মী আজিজুর রহমান সুমনকে (৪২) মারধরের অভিযোগে নৌকা প্রার্থীর
কর্মী-সমর্থকের বিরুদ্ধে মামলা হয়। গ্রেফতার হন পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক
এস এম শাহীন।
এ বিষয়ে আব্দুর রউফের রাজনৈতিক সচিব
সালেহীন সেলিম বলেন, এ পর্যন্ত ১০টির বেশি হামলায় আমাদের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত
হয়েছেন। নৌকার লোকজন ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দিতেই এসব হামলার ঘটনা ঘটাচ্ছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রউফ জানান,
সমর্থকদের নীরব থাকতে বলেছেন তিনি। আঘাত সয়ে ব্যালটে জবাব দিতে বলেছেন।
এদিকে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি
ও কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান বলেন, ‘ভোট এখন উন্মুক্ত। এটা নেত্রীর
নিদের্শ। যার যার কৃতকর্মের ফল সেই সেই ভোগ করবে। তবে প্রতিপক্ষের ওপর হামলার ঘটনা
পুলিশের দেখা উচিত।’
এসব বিষয়ে জানতে কুষ্টিয়া-৪ আসনের নৌকা
প্রার্থী সেলিম আলতাফ জর্জকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।










