চলতি বছর দেশের দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকায় আমন ধানের বাম্পার ফলনে খুশি কৃষক। কিন্তু হঠাৎ আবহাওয়া অফিসের দুঃসংবাদে আতঙ্ক বিরাজ করছে তাদের মাঝে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ রূপ নিতে পারে ঘূর্ণিঝড়ে এমন সংবাদের ভিত্তিতে ধান কাটা ও মাড়াই এবং ধান ঘরে তোলা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন পটুয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলার হাজারো কৃষক।

গতকাল জেলার কলাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ধান কাটতে খুবই ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক। কেউ ধান কাটাছেন মেশিনের মাধ্যমে কেউ আবার কাটছেন শ্রমিক দিয়ে। অনেকে আবার খেতে বসেই বিক্রি করে দিচ্ছেন ধান। মূলত সাগরে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপকে কেন্দ্র করেই ধান কাটার এত তাড়াহুড়ো। 

উপজেলার কুয়াকাটা এলাকার কৃষক হাফিজ সিকদার বলেন, ‘১৭ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় মিধিলিতে খেতের অনেক ধান নষ্ট হয়ে গেছে। তাই এখন খেতে যা আছে তা লোকজন দিয়ে কাটিয়ে নিচ্ছি। কাটা হয়ে গেলে সব ধান বিক্রি করে দেব। আবহাওয়া খারাপ হওয়ার আগে বিক্রি করতে না পারলে পুরো চালানসহ ক্ষতি হয়ে যাবে।’

একই চিত্র দেখা গেছে উপজেলার লতাচাপলী, মহিপুর, নীলগঞ্জ, ধুলাসর, ধানখালী, চম্পাপুর, টিয়াখালী, ডালবুগঞ্জসহ পুরো উপকূলে। ধান কাটা, মাড়াই—এমনকি বেচা-বিক্রিও শুরু হয়ে গেছে এরই মধ্যে। কৃষক জানান, সবাই নিম্নচাপ আতঙ্কে রয়েছেন।

পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী জানান, দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আরো ঘনীভূত হতে পারে। জলবায়ুগত কারণে এ লঘুচাপ ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় মিগজাউমে রূপ নেয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ আর এম সাইফুল্লাহ বলেন, ‘‌এরই মধ্যে পুরো উপজেলায় ধানকাটা শুরু হয়ে গেছে। আমরা আবহাওয়া অফিসের সতর্ক বার্তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি ধান কেটে ঘরে নেয়ার জন্য। তবে এখনো অনেক জায়গায় ধান পুরোপুরি পাকেনি। আবহাওয়া খারাপ হলে এ সময় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে কৃষকের। তাই পুরো উপজেলায় কৃষক ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।’