নড়াইলে চলতি বছর ৫২৩ হেক্টর জমিতে পান আবাদ করেছেন চাষীরা। এক হেক্টর জমিতে বছরে ৮-১০ লাখ টাকার পান বিক্রি করা যায়। সে হিসাবে চলতি বছর প্রায় ৪০০ কোটি টাকার পান বিক্রি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় পানচাষীরা জানান, নড়াইলে পান চাষ একটি আদি পেশা। এ জেলার মাটি পান চাষের জন্য বেশ উপযোগী। ধান, পাট, রবিশস্য চাষের পাশাপাশি কৃষক পান আবাদ করেন। লাভজনক হওয়ায় দিন দিন এ আবাদ বাড়ছে। জেলার চাহিদা মিটিয়ে উৎপাদনের ৮০ শতাংশ পান সরবরাহ হচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায়। জেলায় দুই ধরনের পান চাষ হয়, মিষ্টি পান ও সাচি পান। তবে মোট চাষের ৮০ শতাংশই মিষ্টি পান।

সদর উপজেলার কমলাপুর গ্রামের কৃষক তপন ঘোষ বলেন, ‘পান চাষ আমাদের পূর্বপুরুষের পেশা। তিন যুগেরও বেশি সময় পানের আবাদ করছি। বর্তমানে আমার ৫২ শতক জমিতে পানের আবাদ আছে। গত বছর ২ লাখ ৩৭ হাজার টাকার পান বিক্রি করেছি। খরচ বাদে লাভ হয়েছিল দেড় লাখ টাকা।’

কালিয়া উপজেলার বাবরা গ্রামের পানচাষী তাপস বলেন, ‘পান চাষ করেই আমাদের সংসার চলে। আমি ও আমার স্ত্রী দুজনেই বরজে কাজ করি। দুই যুগ ধরে পানের বরজ করে আসাছি। বর্তমানে দুই বিঘা জমিতে পানের বরজ রয়েছে। প্রতি সপ্তাহে দুটি হাটে ১৫-১৬ হাজার টাকার পান বিক্রি করি।’

পান ব্যবসায়ী আনসার মোল্লা ও বাপ্পি দাস জানান, তারা দীর্ঘদিন পানের ব্যবসা করেন। নড়াইলের বিভিন্ন হাট থেকে পান কিনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করেন। নড়াইলের পানের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিক্রি ভালো হওয়ায় তাদের লাভও বেশি হয়।

নড়াইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক দীপক কুমার রায় জানান, নড়াইলের মাটি পান চাষের উপযোগী। লাভজনক হওয়ায় দিন দিন পানের আবাদ বাড়ছে।