বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের একটি খালে ৯ দশমিক ১৫ মিটার একটি সেতু নির্মাণ শেষ হয়েছে। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে নির্মিত সেতুতে ব্যয় হয়েছে ৩৩ লাখ ১৭ হাজার ৯৫০ টাকা। তবে উদ্বোধনের আগেই সেতুতে ফাটল দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও তাড়াহুড়ো করে কাজ শেষ করায়ই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয়রা জানাজানির পর তড়িঘড়ি মাটি দিয়ে ফাটল ঢেকে দেয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা কবির বলেন, ‘সেতু নির্মাণ করার সময়ই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় আমরা প্রতিবাদ জানিয়েছি। পরে ঠিকাদার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানালে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স পিএমআর এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে অধিকাংশ বিল পরিশোধ করেছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা।’

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের ডিক্রিরচর গ্রামে ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুর ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছিল। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পরও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস।

এ ব্যাপারে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ বলেন, ‘সেতু নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম হলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। সেতু হস্তান্তরের আগে ফাটল দেখা দিলে ঠিকাদারের জমানত বাজেয়াপ্ত করা হবে। প্রয়োজনে সেটা ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করা হবে।’

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এর আগেও একই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার প্রকল্পের অধীনে বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। তবে সেগুলোয়ও ফাটল রয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন বলেন, ‘সেতু নির্মাণে যদি কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে, তাহলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে। অনিয়মকে ছাড় দেয়া হবে না। অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।’