মাদারীপুর-৩ (কালকিনি-ডাসার ও সদরের একাংশ) আসনে নৌকার প্রার্থীর সঙ্গে বৈঠক করায় ৩৭ জন শিক্ষককে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নান্নি খান তাদের অব্যাহতি দেন।

এর আগে গত সোমবার সকালে মাদারীপুর-২ আসনের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও সংসদ সদস্য শাজাহান খানের বাসভবনে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের তিন মিনিট তিন সেকেন্ডের একটি ভিডিও এরই মধ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে শিক্ষক প্রতিনিধিকে প্রার্থীর পক্ষে বক্তব্য দিতে শোনা যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক বলেন, নির্বাচনের বিষয়ে সভার কথা বলে উপজেলা চেয়ারম্যান ও মাদারীপুর সদর উপজেলা শিক্ষক সমাজের সভাপতি ওবায়দুর রহমান খান আমাদের তার বাসায় ডাকে। সভাটি হওয়ার কথা ছিল উপজেলা পরিষদে। তবে সেখানে না হয়ে শাজাহান খানের বাসায় হয়েছে।

কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুজ্জামান শাহিন বলেন, মাদারীপুর-২ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী শাজাহান খান তার নির্বাচনী এলাকার পছন্দের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের প্রিজাইডিং ও পোলিং এজেন্ট করার অপচেষ্টা করছে। মাদারীপুর-৩ আসনে সদর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন আমাদের মধ্যে পড়েছে। তাই শাজাহান খান নিজের প্রভাব বিস্তার করে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। শাজাহান খানের নির্বাচনী এলাকার কোনো লোককে প্রিজাইডিং ও পোলিং এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ করা যাতে না হয়, সেই জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ  দিয়েছি।

এদিকে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ওবায়দুর রহমান খান জানিয়েছেন, শিক্ষকদের তিনটি গ্রুপ। তারা অনেক দিন ধরেই আমাকে বলছিলেন, সবাইকে এক করে দেয়ার জন্য। আমি তাদের বলেছিলাম, ইলেকশন সামনে, পরে করে দেই। তারা এখনই এক হতে চাইলে আমি তাদের আসতে বলেছিলাম। যে প্রসঙ্গে নির্বাচনের কথা উঠছে মূলত সাংগঠনিক আলোচনাই হয়েছে। নির্বাচনের ব্যাপারেও কাউকে নৌকার পক্ষে ভোট চাইতে বলা হয়নি।

এদিকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাসুদ করিম বলেন, যারা ওই মিটিং ছিলেন তাদের সবাইকে শোকজ করা হয়েছে।

জেলা নির্বাচন অফিসার আহমদ আলী জানান, বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তার নজরে আসার সঙ্গেই জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে অবগত করা হয়েছে। আগামী দুইদিনের মধ্যে তদন্ত করে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নির্বাচনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।