ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশরত্ন শেখ
হাসিনা হলে ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সানজিদা
চৌধুরীসহ পাঁচ ছাত্রলীগ কর্মীর হলের সিট বাতিল করে হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ
সোমবার হল প্রশাসনের এক সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। সভায় হল প্রভোস্ট প্রফেসর শামসুল হকসহ হলের হাউজ টিউটররা উপস্থিত ছিলেন। পরে এ মর্মে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি
করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্যাতনের শিকার
শিক্ষার্থীর দায়েরকৃত অভিযোগ হল প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি কর্তৃক প্রমাণিত হওয়ায়
দোষীদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
বহিষ্কৃতরা হলেন, পরিসংখ্যান বিভাগের
২০১৭-২০১৮ সেশনের শিক্ষার্থী সানজিদা চৌধুরী অন্তরা, চারুকলা বিভাগের ২০২০-২০২১ সেশনের
শিক্ষার্থী হালিমা আক্তার উর্মি, আইন বিভাগের ২০২০-২০২১ সেশনের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান
মিম ও ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২০-২০২১ সেশনের শিক্ষার্থী তাবাসসুম ইসলাম
ও মুয়াবিয়া জাহান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশরত্ন শেখ হাসিনা
হলের গণরুমে নির্যাতন করার অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী। তিনি হলের আবাসিক
ছাত্রী ছিলেন না। তবে ৮ ফেব্রুয়ারি গেস্ট হিসেবে উঠেছিলেন একটি রুমে। তিনি ফিন্যান্স
বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে সানজিদা চৌধুরীর
নেতৃত্বে ছাত্রলীগের কর্মীরা তাকে রুম থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে একটি গণরুমে প্রায় ৪ ঘণ্টা
নির্যাতন করে। তাকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করার ভয় দেখানো হয়। গালাগাল, কিল ও চড়
দেয়া হয়। ঘটনা কাউকে জানালে মেরে ফেলার হুমকি
দেওয়া হয়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী হল ত্যাগ
করেন। পরে ১৫ ফেব্রুয়ারি তিনি ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, হলের প্রভোস্ট ও ছাত্র
উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেন।
হল প্রশাসন ওইদিনই তদন্ত কমিটি গঠন
করে। চার সদস্যের কমিটি গতকাল প্রতিবেদন জমা দেয়। ঐ প্রতিবেদন আজ সোমবার হাইকোর্টে
জমা দেয়া হয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে হল প্রভোস্ট প্রফেসর
শামসুল হক জানান, প্রাথমিকভাবে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যেহেতু বিষয়টি হাইকোর্টে রয়েছে,
সেখান থেকে আরো নির্দেশনা এলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি বলেন, ভিডিও ধারণের অভিযোগ প্রমাণিত
হয়নি। কারণ ভিডিও ধারণের অভিযোগে অভিযুক্ত হালিমা আক্তার উর্মি দাবি করেছেন তার মোবাইল
হারিয়ে গেছে। ওই মোবাইল খুঁজে বের করতে উদ্যোগ নিতে হল প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে
অনুরোধ জানিয়েছেন।










