পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মারধরের শিকার  ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪ ব্যাচের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় ঢাকার সাভারের বিরুলিয়ায় অন্তত দুই শতাধিক দোকান, রেস্তোরাঁ ভাংচুর করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার (৩ নভেম্বর) বিকাল ৫টার দিকে বিরুলিয়ার আকরাইন বাজার এলাকায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা এই হামলা ও ভাংচুর চালায়।

এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাংচুরসহ  বিভিন্ন দোকানপাটের বৈদ্যুতিক মিটার, সিসিটিভি ক্যামেরা ভাংচুরের পাশাপাশি বিভিন্ন দোকানের সামনে থাকা কাঠের বেঞ্চে আগুন জ্বালিয়ে দেয় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে এলাকা থেকে সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

এদিকে স্থানীয় বাজারে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

নিহত শিক্ষার্থীর নাম হাসিবুল ইসলাম অন্তর। তিনি সাভারের ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল বিভাগের (৪র্থ বর্ষ) ৪৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ অক্টোবর পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বিরুলিয়া এলাকার স্থানীয় কিছু যুবক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাসিবুল ইসলাম অন্তরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে তুলে নিয়ে মারধর করে।

পরে আহত অবস্থায় প্রথমে ওই শিক্ষার্থীকে চিকিৎসার জন্য সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে ময়মনসিংহের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীর সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আজ বিকালে আকরাইন বাজার এলাকায় কিছু দোকানপাটে ভাংচুর করে। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছি। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক।

ওসি বলেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টা আমাদের জানায়। পরে এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করলে পুলিশ মামলার মূল আসামি রাহাত সরকারকে গাজীপুর থেকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত রাহাতকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স) সৈয়দ মিজানুর রহমান রাজু বলেন, কিছু দুষ্কৃতকারীর মারধরে আমাদের  শিক্ষার্থী আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে। যেটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এঘটনায় শিক্ষার্থী ও আমরা অত্যন্ত মর্মাহত। আমরা যদিও চিকিৎসা থেকে শুরু করে সার্বক্ষণিক ওই শিক্ষার্থীর পাশে ছিলাম। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস থেকে আমরা পুলিশকে জানিয়েছি। পুলিশ ইতোমধ্যে মামলা রেকর্ডের পাশাপাশি একজনকে গ্রেফতারও করেছে। শিক্ষার্থীদের মূল দাবি সর্বোচ্চ বিচার নিশ্চিত করা।