লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার নামুড়ী এলাকার নিজ বাড়ি থেকে পুলিশ পরিচয়ে তুলে নেয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল আমিনের (৫৪) তিনদিনেও সন্ধান মেলেনি। তাকে অপহরণ করার অভিযোগে শনিবার রাতে আদিতমারী থানায় মামলা হয়েছে। অপহৃত প্রধান শিক্ষক উপজেলার দোলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, পলিশের কেউ তাকে তুলে আনেনি। অন্য কেউ এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে।

আদিতমারী থানার ওসি মো. মোকতারুল ইসলাম আদিতমারী উপজেলার দোলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল আমিন অপহৃত হওয়ার ঘটনা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় অপহৃত নুরুল আমিনের ছেলে আব্দুর রউফ বাদী একটি মামলা করেছেন। আমরা অপরাধী শনাক্ত ও ভিকটিমকে উদ্ধারের চেষ্টা করছি।’ 

অপহৃত প্রধান শিক্ষক নুরুল আমিনের বড় ভাই নামুড়ী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রুহুল আমিন বলেন, ‘গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে একটি সাদা ও একটি কালো রঙের মাইক্রোবাসে ১০-১২ জন লোক পুলিশ পরিচয়ে বাড়িতে ঢুকে নুরুল আমিনকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে চলে যায়। এ সময় আমি ও আমার চাচা আবু তালেব (৬৫) বাধা দিলে আমাদেরকেও মারধর করা হয়। আমি ও আমার চাচা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এখনো আমার ভাইয়ের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।’

আদিতমারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনএম শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক নুরুল আমিনের বাবা আজিজার রহমান আমাকে মুঠোফোনে বিষয়টি অবগত করলে আমি থানায় লিখিত অভিযোগ করার পরামর্শ দিয়েছি। এখন পর্যন্ত ওই শিক্ষকের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। প্রকৃত ঘটনা কী ঘটেছিল সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ও তার পরিবার ভালো বলতে পারবে।’   

লালমনিরহাট অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আতিকুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষক নুরুল আমিনকে উদ্ধার ও অপরাধীদের আইনের আওতায় নেয়ার চেষ্টা চলছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘পুলিশের কেউ ওই ঘটনায় জড়িত নয়। কে বা কারা জড়িত-প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার ও অপরাধীদের গ্রেফতারের পর তা পরিষ্কার বোঝা যাবে।’