দিনাজপুর লিচু উৎপাদনে শীর্ষে থাকলেও জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে কম-বেশি আম উৎপাদন হয়। বিগত বছরগুলোয় প্রচলিত পদ্ধতিতে আম উৎপাদন হলেও হিলিতে প্রথমবারের মতো ব্যবহার হচ্ছে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি। এ পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে বেশি উৎপাদন ও খরচ কম হয় বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
কৃষি বিভাগ বলছে, ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি বলতে ফল গাছে থাকা অবস্থায় একটি নির্দিষ্ট সময়ে বা বয়সে বিশেষ ধরনের ব্যাগ দিয়ে ফলকে আবৃত করাকে বোঝায়। ব্যাগিং করার পর থেকে ফল সংগ্রহ করা পর্যন্ত গাছেই লাগানো থাকে ব্যাগটি। এ পদ্ধতিতে নিরাপদ, বিষমুক্ত ও রফতানিযোগ্য আম উৎপাদন করা যায়। এছাড়া বালাইনাশক ব্যবহার ছাড়াই শতভাগ রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণমুক্ত আম পাওয়া সম্ভব। ব্যাগিং করলে বালাইনাশকের ব্যবহার কমবে ৭০-৮০ শতাংশ। যেকোনো জাতের আমের ত্বক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও হলুদাভ করা যায় এবং আমের সংরক্ষণকাল বাড়ানো যায়, যা রফতানির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
হিলির গোহাড়া গ্রামের কৃষক নিরঞ্জন সরকার ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে এক একর জমিতে বারী-৪ গৌরমতি ও আম্রপালি জাতের আম চাষ করেছেন। প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন অন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) ও ক্লাস্টার ডেমোনস্ট্রেশন ফর গ্যাপ স্ট্যান্ডার্ড অব ফ্রুটস প্রকল্পের আওতায় আমবাগান করেছেন তিনি।
কৃষক নিরঞ্জন সরকার বলেন, ‘গ্যাপ ও পার্টনার প্রকল্পের মাধ্যমে প্রথমে প্রশিক্ষণ নিয়েছি। পরে প্রকল্পের আওতায় আমবাগান করেছি। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। সে মোতাবেক আমের পরিচর্যা করে ভালো ফলন পেয়েছি। আবহাওয়া ভালো থাকায় আমের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সহযোগিতা করলে আম বিদেশে বাজারজাত করা যাবে।’
তিনি বলেন, ‘আগে আমরা ব্যাগিং পদ্ধতি ছাড়াই আম চাষ করেছি। সেক্ষেত্রে দাম খুব একটা ভালো না পাওয়ায় লাভজনক হয়নি। এছাড়া ব্যাগিং পদ্ধতি ছাড়া আম চাষের ফলে ক্ষতিকারক পোকামাকড় আমের ক্ষতি করে ফেলে। এসব পোকা দমনে কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মানবদেহের ক্ষতিও হয়। এজন্য ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম চাষ করা উত্তম। পোকামাকড় থেকে ফলকে মুক্ত রাখার জন্য সেক্স ফেরোমন ফাঁদ বেশ উপকারী। কীটনাশক ব্যবহারের ফলে খরচ বেশি হয়। ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম চাষ করলে সে খরচ বেঁচে যায়। এছাড়া একবার ব্যাগ ব্যবহার করলে সে ব্যাগ পরের বছর ব্যবহার করা যায়। এ পদ্ধতিতে আমের গুণাগুণ যেমন ভালো থাকে, তেমনি খরচও কম হয়।’
হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম বলেন, ‘উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো পার্টনার প্রকল্পের আওতায় আম চাষ প্রদর্শনী বাস্তবায়ন হচ্ছে। উপজেলার গোহাড়া এলাকায় কৃষক নিরঞ্জন রায়কে এক একর আমবাগানের একটি প্রদর্শনী দেয়া হয়েছে। বাগানের মাটি ও পানি পরীক্ষা থেকে শুরু করে কখন, কোন বালাইনাশক স্প্রে করতে হবে, সব বিষয়ে তাকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে তার বাগান মনিটরিং করা হচ্ছে। ফল হারভেস্ট করার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত যে পরিচর্যাগুলো না করলেই নয়, তার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। সেফ ফ্রুটস হারভেস্ট বা প্রসেসের ক্ষেত্রে ব্যাগিং পদ্ধতি খুব জরুরি একটি পরিচর্যা। যেখানে বালাইনাশকের পরিমিত ব্যবহার থেকে শুরু করে একটি ফলের সবকিছুই এ পদ্ধতির মাধ্যমে করা যায়।’










