ফ্রান্সভিত্তিক বায়িং হাউজ জাস্ট-১০। ২০১৪ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি ঢাকায় তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। গত আট বছরে প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক হিসাব থেকে ২৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। কারখানার ভাড়া, ভুয়া কর্মচারী নিয়োগ এবং তাদের নামে উৎসব ভাতা বাবদ ভুয়া বিল ভাউচার করে এসব অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এমনকি প্রতিষ্ঠানটির ওয়াশিং প্লান্টের মেশিন বিক্রি করেও টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। পরে এ টাকা পাচার করা হয়েছে কানাডায়। বায়িং হাউজটির নিজস্ব অনুসন্ধানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
আর্থিক হিসাবের গরমিলের বিষয়টি নজরে আসার পর ফ্রান্সভিত্তিক বায়িং হাউজের প্রধান কার্যালয় থেকে ঘটনা অনুসন্ধানে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ঢাকা অফিসের ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপার্ট পারভেজ সাজ্জাদের নেতৃত্ব ওই কমিটির দীর্ঘ অনুসন্ধানে অর্থ আত্মসাতের আরো বিস্তর তথ্য উঠে আসে। অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির ঢাকা অফিসের কান্ট্রি ডিরেক্টর মো. গোলাম সারোয়ার নোমান ও তার স্ত্রী ফৌজিয়া আক্তারের সম্পৃক্ততার তথ্য পায় তদন্ত কমিটি।
জাস্ট-১০ নামের ফ্রান্সভিত্তিক বায়িং হাউজটির অনুসন্ধানের তথ্য বলছে, ২০১৪ থেকে ২০২২ সালের মে মাস পর্যন্ত ফ্রান্স অফিস থেকে ১ কোটি ১২ লাখ ১৯ হাজার ২৯৭ ডলার বাংলাদেশের অফিসের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হয়। সে সময় প্রতিষ্ঠানটির বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন মো. গোলাম সারোয়ার নোমান। তিনি বিভিন্ন সময়ে কর্মচারীদের ভুয়া নিয়োগপত্র দেখিয়ে এবং কারখানার প্রকৃত ভাড়ার তিন গুণেরও বেশি অর্থ প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব থেকে সরিয়ে নেন। এর বাইরে তিনি বিভিন্ন সময়ে উৎসব ভাতা এবং অসুস্থতা ভাতা কর্মচারীদের প্রদান না করে ভুয়া ভাউচার তৈরি করে ২৬ লাখ ডলার আত্মসাৎ করেন।
এছাড়া তিনি ইভান নামের এক কর্মকর্তার শিশুপুত্রের চিকিৎসা বাবদ প্রধান কার্যালয় থেকে পাঠানো ২ হাজার ডলার আত্মসাৎ করেন। কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলনের উত্তরা শাখা থেকে এসব টাকা আত্মসাৎ করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির অনুসন্ধান কমিটির ভাষ্যমতে, জাস্ট-১০-এর ওয়াশিং প্লান্টের মেশিন বিক্রি করে ৩০ লাখ টাকা, সেলাই মেশিন বিক্রি করে ১০ লাখ ও কাপড় বিক্রি বাবদ ১ কোটি টাকা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে গোলাম সারোয়ার নোমান নিজে আত্মসাৎ করেন।
রাজধানীর বাড্ডার বড় বেরাইদ বাগানবাড়িতে অবস্থিত জাস্ট-১০ নামের এই বায়িং হাউজের পক্ষ থেকে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় একটি মামলা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার (ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাডমিন) সৈয়দ গোলাম নওশের জাহান বাদী হয়ে গতকাল বিকালে বাড্ডা থানায় এ মামলা দায়ের করেন। ২৩ কোটি টাকা আত্মসাতের এ মামলায় আসামি করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানের সাবেক কান্ট্রি ম্যানেজার গোলাম সারোয়ার নোমান ও তার স্ত্রী ফৌজিয়া আক্তারকে।
বাড্ডা থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ বণিক বার্তাকে বলেন, জাস্ট-১০ নামের ফ্রান্সভিত্তিক বায়িং হাউজের পক্ষ থেকে একটা মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ২৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তোলা হয়েছে। ওই দম্পতিকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।










