জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘পৃথিবীর মধ্যে গুটিকয়েক রাষ্ট্র আত্মহত্যাকে অপরাধপ্রবণতার জায়গা থেকে ব্যাখ্যা করে। দুঃখজনকভাবে বাংলাদেশেও আত্মহত্যাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ৩০৯ ধারায় আত্মহত্যা চেষ্টার সাজা এক বছর কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে আত্মহত্যা ক্রিমিনাল ইস্যু নয়; হেলথ ইস্যু। মানসিক রোগের সঙ্গে আত্মহত্যা সম্পর্কিত। সুতরাং আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। মনের যত্ন নিতে হবে। মনের যত্ন যত নেবেন তত মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে পারবেন। এজন্য আত্মহত্যাকে ক্রিমিন্যাল ইস্যু থেকে হেলথ ইস্যুতে ট্রান্সফরম করতে হবে।’

গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত এক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এ কথা বলেন। বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-নির্দেশনা ও পরামর্শদান দপ্তর এবং ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে এই সেমিনার আয়োজন করে।

‘কর্মের মাধ্যমে আশা তৈরি করি: আত্মহনন থেকে দূরে থাকি’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সেমিনারে অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব রঞ্জন কর্মকার এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. একিউএম শফিউল আজম বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন। আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহীন ইসলাম এবং ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ কামরুজ্জামান মজুমদার। স্বাগত বক্তব্য দেন ছাত্র-নির্দেশনা ও পরামর্শদান দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মেহজাবীন হক।

শিক্ষার্থীদের স্মার্ট নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আত্মহত্যা এবং আত্মহত্যাপ্রবণতা একটি সামাজিক ও মেডিকেল ইস্যু। আর্থিক সংকটসহ সব ধরনের প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। মানসিক চাপ ও বিষণ্ণতা দূর করতে একে অন্যের পাশে দাঁড়াতে হবে।’

আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে সর্বোচ্চ মেধাবী শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। এখানে এসে আবার তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। তখনই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীটি হতাশায় পড়ে যায়। নিজেকে অন্যদের চেয়ে ছোট মনে করতে থাকে, স্বপ্ন দেখা বন্ধ করে দেয়। কিন্তু প্রকৃত বিচারে সে পিছিয়ে নয়, সে-ও মেধাবী। হতাশা থেকে বেরিয়ে এসে এই উপলব্ধি করতে হবে। নতুন করে স্বপ্ন দেখতে হবে। স্বপ্ন দেখা যেন বন্ধ না হয়। স্বপ্নই পারে মানুষকে বাঁচিয়ে রাখতে। তবেই আত্মহত্যার হার কমবে।’