মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গতকাল কয়েকটি জেলায় ভারি বৃষ্টি হয়েছে। তলিয়ে গেছে এসব শহরের বিভিন্ন সড়ক ও নিম্নাঞ্চল। আবহাওয়া অফিসের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং সেটি উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। এর প্রভাবে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি ও অতিভারি বর্ষণ হয়েছে। তবে এ সময়ে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে নোয়াখালীর মাইজদী কোর্টে। সেখানে বৃষ্টি হয়েছে ২৭৬ মিলিমিটার। আজ বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে। কাল থেকে আবার বাড়তে পারে।

বরিশাল: টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও নিম্নাঞ্চল। বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে একটানা বৃষ্টিতে নগরীর বটতলা, সদর রোড, কাউনিয়া, পলাশপুর, আমানতগঞ্জের বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়।

বরিশাল আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বশির আহমেদ জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে শুক্রবার পর্যন্ত বরিশাল জেলায় ১২ ঘণ্টায় ১১১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে ভোর ৬টা-৯টা পর্যন্ত ভারি বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে ৬১ মিলিমিটার। আজ ভোর ৬টা পর্যন্ত জেলার ৭৪ শতাংশ এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে কীর্তনখোলা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নদীতীরবর্তী দুটি কলোনি প্লাবিত হওয়ায় সেখানে ঘরবন্দি রয়েছে কয়েক হাজার মানুষ।

চাঁদপুর: টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন সড়ক। ভোগান্তিতে পড়েছে মানুষ। গতকাল সকালে বৃষ্টির পানি ও ড্রেনের পানি মিশে একাকার। শহরের আব্দুল করিম পাটোয়ারী সড়ক ও ট্রাক রোড, মমিন পাড়া, কলেজ রোড, বিপণিবাগ, নাজিরপাড়ার অবস্থা একেবারেই নাজুক। বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বিষ্ণুদী মাদ্রাসা রোড, ব্যাংক কলোনি, নাজিরপাড়া, প্রফেসর পাড়াসহ বেশকিছু অঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

ফেনী: শহরের প্রধান সড়কসহ অলিগলি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে বিপাকে পড়েছে পথচারী ও শহরের বাসিন্দারা। তবে রাস্তা থেকে পানি সরিয়ে চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন পৌরসভার মেয়র।

গত বৃহস্পতিবার থেকে টানা বৃষ্টির কারণে শহরের শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়ক ডুবে গেছে। এছাড়া বিভিন্ন ওয়ার্ডের বেশির ভাগ সড়ক পানির নিচে রয়েছে। কোনো কোনো সড়ক ২-৩ ফুট পানির নিচে থাকায় গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। শহরের মিজান রোড়, একাডেমি রোড, রামপুর, তাকিয়া রোড়, আবু বক্কর সড়ক, শাহীন একাডেমি রোড, বড় বাজারে গলি, বারাহীপুরের বিভিন্ন সড়ক, মহিপাল চৌধুরীবাড়ী সড়ক, পাঠানবাড়ীসহ বিভিন্ন সড়ক তলিয়ে গেছে।

ফেনী পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী জানান, কাউন্সিলরদের তত্ত্বাবধানে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কাজ করা যাচ্ছেন। পৌরসভার নাগরিকরা পলিথিন থেকে শুরু করে সব ময়লা ড্রেনে ফেলার কারণে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। এতে সড়কের ওপর দিয়ে পানি গড়াতে থাকে। বৃষ্টি কমার সঙ্গে সঙ্গে পানি নেমে যাবে।

নোয়াখালী: গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ২৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে নোয়াখালী শহরে। ডুবে গেছে রাস্তাঘাট। পাশাপাশি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি অফিস ও বাসাবাড়িতেও পানি ঢুকেছে।

স্থানীয়রা বলছেন, পৌরসভার উদাসীনতার কারণে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। সমস্যা সমাধানে নেয়া হয়নি টেকসই কোনো পরিকল্পনা। পৌরসভা কর্তৃপক্ষের দাবি, শহরে ব্যক্তিমালিকানাধীন বিভিন্ন পুকুর ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণ এবং খাল ও নালা দখল হয়ে যাওয়ার কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।

সরজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন সরকারি অফিসে প্রবেশের পথ পানিতে ডুবে রয়েছে। পানিতে ডুবে থাকতে দেখা গেছে জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, জেলা সিভিল সার্জনের বাসভবনের সড়কও।

নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র শহিদ উল্যাহ খান সোহেল বলেন, ‘পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়েছি। দেখলাম ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রায় সব পুকুর ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। পৌরসভার ভেতরে যেসব খাল-নালা রয়েছে সেগুলো দখল হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে আজ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে বৈঠক ডাকা হবে। সেখানে করণীয় ঠিক করা হবে।’

জেলা আবহাওয়া অফিস দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, নোয়াখালী শহরে ২৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এটি গত ২০ বছরের মধ্যে নোয়াখালীতে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী নোয়াখালীতে আরো কয়েক দিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।

বাগেরহাট: দুদিনের টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে বাগেরহাট শহরের নিচু এলাকা। প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুপানি জমে গেছে। জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় শহরবাসীকে।

গত বুধবার রাত থেকে লাগাতার বৃষ্টিতে শহরের শালতলা, পিটিআই মোড়, খারদার স্কুল রোড, হাসপাতাল মোড়সহ আশপাশের বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যায়। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে ঘরের সামনে হাঁটুপানি জমে থাকায় বিপাকে পড়েছেন শহরবাসী। পানিবন্দি পরিবারগুলো দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে।

শহর ঘুরে দেখা গেছে, পৌরসভা কার্যালয়ের সামনের সড়ক, খানজাহান আলী রোড, রেল রোড, সাধনার মোড়, শালতলা, খারদার, মিঠাপুকুর পাড়, পুরাতন বাজার মোড়, পোস্ট অফিসের সামনে, পুরাতন কোর্টসহ অধিকাংশ সড়ক প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ শহরের প্রধান কাঁচাবাজার, মাছবাজারও পানিতে প্লাবিত হয়েছে।