জনগণের আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করলে সরকারকে তার পরিণতি মোকাবেলা করতে হবে। গতকাল বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের আলোচনা সভায় বক্তারা এসব বলেছেন।
সকালে সংগঠনটির প্রধান কার্যালয়ে ‘সংস্কারের সাংবিধানিক বৈধতা: নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কূপ্রভাব’ শীর্ষক এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাসিবুদ্দীন হোসেনের সঞ্চালনায় এতে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসনাত আবদুল কাইয়ূমসহ সংগঠনটির অন্য নেতারা।
অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ূম বলেন, ‘যেসব সংস্কারের দাবিতে মানুষ আন্দোলন করেছে—গুম-খুনের বিচার, মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা, ব্যাংক লুটপাট বন্ধসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সেগুলো বাস্তবায়নের পরিবর্তে উপেক্ষা করা হচ্ছে। সংস্কার কোনো সাংবিধানিক প্রকল্প নয়, এটি একটি রাজনৈতিক প্রকল্প। সংবিধানের ভেতরে সংস্কারের বৈধতা খোঁজার চেষ্টা জনগণকে বিভ্রান্ত করার শামিল।’ তিনি অভিযোগ করেন, সরকার ও সংসদ সংস্কারের নামে পুরনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
তিনি আরো বলেন, ‘যদি সরকার প্রকৃত সংস্কারে আগ্রহী হয়, তাহলে সংসদের বাইরে স্বাধীন সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় সংস্কারের নামে সংশোধনের মাধ্যমে জনগণকে ধোঁকা দেয়া হবে।’
রাষ্ট্র সংস্কার ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সংগঠক লামিয়া ইসলাম বলেন, ‘সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি দেখলে স্পষ্ট হয় যে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিবর্তন আসেনি। একটি আন্দোলনের পর যে ধরনের নির্বাচন ও সংস্কার হওয়ার কথা ছিল, বাস্তবে তা দেখা যাচ্ছে না।’
অন্য বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালের পর থেকে দেশে যত গণ-অভ্যুত্থান ও বিপ্লব হয়েছে, প্রতিবারই জাতিকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে না দিয়ে পুরনো ধারায় ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। তারা আরো বলেন, নির্বাচনের আগে যারা জুলাই সনদ ও সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন, ক্ষমতায় এসে তাদের অবস্থান প্রায় ১৮০ ডিগ্রি পরিবর্তিত হয়েছে। বিশেষ করে মানবাধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের বিষয়গুলো থেকে সরকার পিছিয়ে এসেছে।










