ঠাকুরগাঁওয়ে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশী নাগরিক নিহত হয়েছেন। গতকাল ভোরে হরিপুর উপজেলার বেতনা সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের আব্দুল মজিদের ছেলে রবিউল ইসলাম ও হরিপুর উপজেলার বকুয়া ইউনিয়নের মৃত ভাকু মোহাম্মদের ছেলে নাজির উদ্দিন।
পুলিশ ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, হরিপুর উপজেলার বেতনা সীমান্তের ৩৬৭ নং পিলার এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন নাজির ও রবিউল। এ সময় ভারতের ফুলবাড়ী সীমান্তে দায়িত্বরত বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে আহত হন তারা। পরে আহত অবস্থায় বাংলাদেশে ফেরত আসেন। পরিবারের সদস্যরা আহতদের নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে দুজনই মারা যান।
পুলিশ বলছেন, শীত এলেই চোরাকারবারিরা তত্পর হয়ে ওঠে সীমান্ত পারাপারে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সীমান্ত এলাকার মানুষকে বারবার সচেতন করা হলেও তারা তা মানছে না।
স্থানীয়রা বলছেন, বিজিবির নিরাপত্তাহীনতার কারণেই বারবার ঘটছে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। বিজিবি চাইলে সীমান্ত দিয়ে কোনো লোকই পারাপার হওয়ার সাহস পেত না। তাই সীমান্তে আরো কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা। সেই সঙ্গে সীমান্তের মানুষের কর্মস্থান না থাকাকে দায়ী করছেন তারা।
এ বিষয়ে হরিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসএম আওরঙ্গজেব বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশী নিহতের কথা স্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দুটি ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল শহীদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। চিঠি দিয়ে পতাকা বৈঠকেরও আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে বিএসএফের পক্ষ থেকে গতকাল বিকাল পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।










