সুরমা নদীর পানির স্তর যত নিচে নামছে বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন ততই প্রকট হচ্ছে। এতে নদীতীরবর্তী বিভিন্ন গ্রাম বিলীন হতে চলছে। ফলে ভাঙনপ্রবণ গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত ১০ দিনে সুরমার ভাঙনে গৃহহীন হয়ে পড়েছে অনেক পরিবার। ভাঙন অব্যাহত থাকলে সিলেট সদর উপজেলার মোগলগাঁও ও কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম
বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গিয়েছে, সিলেট সদর উপজেলা কান্দিগাঁও ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হেরাখলা এবং মোগলগাঁও ইউনিয়নের যোগীরগাঁও গ্রাম এলাকায় বেশি ভাঙন দেখা দিয়েছে। এছাড়া মোগলগাঁও ইউনিয়নের লালারগাঁও, তালুকপাড়া, খালপাড়, মিরেরগাঁও, ফতেহপুর, ফুলকুচি, পিরেরগাঁও, আঁকিলপুর ও নোয়াগাঁওয়ের একাংশে সুরমা নদীর তীরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিতে পড়েছে সংশ্লিষ্ট গ্রামের ঘরবাড়ি, ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, সুরমা তীরবর্তী হেরাখলা একটি বৃহৎ গ্রাম ছিল। নদীভাঙনে গ্রামটি এখন দুই ভাগে বিভক্ত। অব্যাহত ভাঙনের ফলে ঘরবাড়ি ছেড়ে অনেকে সুরমার অন্য পাড়ে গিয়ে বসতি স্থাপন করেছে। দ্বিখণ্ডিত হয়ে পড়েছে হেরাখলা গ্রামটি।
হেরাখলা গ্রামের প্রবীণ মখলিছুর রহমান বলেন, নদীভাঙন আমাদের অনেককে গৃহহীন করেছে। স্বজনরা একে অন্যের থেকে স্থানান্তরিত হতে বাধ্য হচ্ছে। গ্রামের যে অংশটি বিদ্যমান, সম্প্রতি ভয়াবহ বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর থেকে হঠাৎ ভাঙন দেখা দিয়েছে।
মখলিছুর রহমান জানান, গ্রামের একমাত্র মসজিদের অর্ধেক অংশ নদীতে চলে গিয়েছে। যেটুকু আছে সেখানে নামাজ পড়ার পরিবেশ নেই। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আমাদের ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে যাবে। নিঃস্ব হওয়া ছাড়া আর উপায় নেই। তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
কান্দিগাঁও ইউনিয়নের পশ্চিম দর্শা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সামাদ জানান, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার মরহুম হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, সাবেক অর্থমন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমানের চেষ্টায় পশ্চিম দর্শা এলাকায় এক কিলোমিটার ব্লক স্থাপন করা হয়েছে। ওই এলাকা রক্ষা পেলেও বাকি এলাকা এখনো ভাঙনকবলিত। দিন দিন ভাঙন বেড়েই চলেছে। এর মধ্যে হেরাখলা গ্রামটি বিলীন হওয়ার পথে।
কান্দিগাঁও ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, হেরাখলা এলাকায় হঠাৎ করে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এলাকার মানুষ হতদরিদ্র। এ পরিবারগুলোর মাথা গোঁজার স্থানটুকু বাঁচানো যাচ্ছে না। অবিলম্বে ব্লক বসানো প্রয়োজন। না হলে হেরাখলা গ্রামের শেষ অংশটুকুও সুরমায় বিলীন হয়ে যাবে।
এদিকে সাম্প্রতিক ভাঙনে মোগলগাঁও ইউনিয়নের যোগীরগাঁও অংশে নদীভাঙনে চারটি পরিবার নিঃস্ব হয়ে গিয়েছে। নদীভাঙনে গ্রামের মো. আব্দুর রুফ, মোহম্মদ আজির উদ্দিন, বাবুল মিয়া ও আব্দুল আলিমকে আশ্রয় নিতে হয়েছে অন্যত্র।
মোগলগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নেছার আহমদ জানান, চেয়ারম্যান দেশের বাইরে। নদীভাঙনের বিষয়টি তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নজরে আনার চেষ্টা করেছেন।
কান্দিগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মনাফ জানান, তার ইউনিয়নের বেশকিছু গ্রাম সুরমা তীরবর্তী। হেরাখলা ছাড়াও ধনপুর, জাঙ্গাইল এলাকায় নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। গ্রামগুলো রক্ষায় পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।
পাউবো, সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী আসিফ আহমেদ বলেন, সুরমা নদীর সিলেট সদর অংশে ভাঙনের খবর পেয়ে একজন কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ভাঙন রোধে আপত্কালীন ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চলছে।










