সিরাজগঞ্জে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্যাথলজিতে পড়ে আছে ব্লাড কালচার মেশিন। যে মেশিন দিয়ে রক্তে কোন ধরনের জীবাণু রয়েছে, তা শনাক্ত এবং ওষুধ নির্দেশ করা হয়। একইভাবে যক্ষ্মার ধরন নির্ণয়ে এবং তার চিকিৎসায় কী ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করতে হবে তার নির্দেশনা প্রদানের জন্য যক্ষ্মা কালচার মেশিন, পড়ে আছে এনজিওগ্রাম (কফ ল্যাব) ও বায়োপসি করার মেশিন। মেশিনগুলো চালানোর জন্য নেই প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, টেকনিশিয়ান। প্রায় আট মাস মেশিনগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে না।
স্বল্প খরচে এসব রোগের চিকিৎসা থেকে সাধারণ মানুষ যেমন বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে ব্যবহার না করায় পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে কোটি কোটি টাকার মূল্যবান যন্ত্রপাতি।
শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রকল্প পরিচালক ডা. কৃষ্ণ কুমার পাল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ব্লাড কালচার মেশিন, যক্ষ্মা কালচার মেশিন, এনজিওগ্রাম (কফ ল্যাব) ও বায়োপসি পরীক্ষা করার মতো অতিপ্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ মেশিন প্রায় আট মাস আগে হাসপাতালে স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে চালু করা যাচ্ছে না।’
হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস মুহা. খায়রুল আতাতুর্ক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এসব যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হলেও প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ না থাকায় হাসপাতালে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রোগের পরীক্ষা সম্ভব হচ্ছে না। তবে বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে।’
সিরাজগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে চিকিৎসা খাতে। শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মূল্যবান যন্ত্রপাতি জনবলের অভাবে পড়ে রয়েছে, বিষয়টি আমাকে সেভাবে জানানো হয়নি। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
সংসদ সদস্য প্রকৌশলী তানভীর শাকিল জয় বলেন, ‘সরকার আধুনিক চিকিৎসাসুবিধা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চেষ্টা করা হচ্ছে। সে ধারাবাহিকতায় তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মরহুম মোহাম্মদ নাসিমের প্রচেষ্টায় সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিশ্বের সর্বাধুনিক সব ধরনের চিকিৎসা যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়। কিন্ত প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে মূল্যবান যন্ত্রপাতি পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। সাধারণ মানুষও চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হবে এটা আসলে মেনে নেয়া যায় না। বিষয়টি দ্রুত সুরাহার ব্যবস্থা করা হবে।’
জানা যায়, হাসপাতালটিতে আধুনিক মানের উন্নত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সব ধরনের এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, ইউএসজি, ইসিজি, ইকো, ইটিটি, চোখের ল্যাসিক সংযোজন সুবিধাসহ ডেন্টাল ইউনিট চালু করা হয়েছে। ল্যাপারোস্কপি অপারেশনের সুবিধাসহ রয়েছে সব ধরনের অপারেশনের ব্যবস্থা। শিশু, গাইনি, অর্থোপেডিক, ইএনটি মেডিসিন বিভাগ চালু করা হয়েছে। রয়েছে সিসিইউ সুবিধা। কিন্তু ব্লাড কালচার মেশিন, যক্ষ্মা কালচার মেশিন, এনজিওগ্রাম (কফ ল্যাব) ও বায়োপসি পরীক্ষা করার মতো প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ মেশিন হাসপাতালে থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে চালু করা যাচ্ছে না।










