পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আব্দুর রাহিম সাকি বলেছেন, প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ, দক্ষতা এবং শিল্প খাতের চাহিদা অনুযায়ী জনশক্তি তৈরি জাতীয় পরিকল্পনা ছাড়া সম্ভব নয়। কোনো একটি প্রকল্পের মাধ্যমে এ কাজ করা যাবে না। দেশে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান থাকলেও তাদের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় নেই। কোথাও প্রশিক্ষক নেই, কোথাও শিক্ষার্থী নেই। আবার কোথাও শিক্ষার্থী থাকলেও দক্ষ শিক্ষক নেই।
এছাড়া দেশের তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা খাত ও সরকারের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। ভবিষ্যতের প্রয়োজনীয় দক্ষতা নির্ধারণ এবং শিল্প খাতের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণের বিষয় ঠিক করতে তিন পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন জুনায়েদ সাকি।
রাজধানীর নভোথিয়েটারে আজ ‘মানবসম্পদ ৪.০: প্রযুক্তিগত ও শিক্ষাগত উদ্ভাবনের মাধ্যমে তরুণদের ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মতো বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগে সক্রিয় করতে হবে। একইসঙ্গে ৩২৯টি উপজেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বর্তমানে ২৬৮টি উপজেলায় এসব কেন্দ্র রয়েছে। যেসব উপজেলায় নেই, সেসব জায়গায় নির্মাণকাজ চলছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে কোন ধরনের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। পাঁচ বছর পর যার কোনো বাজার থাকবে না, এমন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া যাবে না। ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাচ্ছে, তা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা খাত ও সরকারকে একসঙ্গে নির্ধারণ করতে হবে। এরপর সেই অনুযায়ী প্রশিক্ষণের বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
তরুণদের প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু সরকারি অবকাঠামোর ওপর নির্ভর না করে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতায় তরুণদের জন্য প্লাটফর্ম তৈরি করা হচ্ছে। সেখানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকবে। ছয় মাসের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের এমনভাবে প্রস্তুত করা হবে, যাতে তারা আয় শুরু করতে পারেন।
প্রযুক্তির পরিবর্তনের কারণে সব ধরনের উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আসবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ কারণে প্রয়োজনীয় জনশক্তি তৈরিতে শিক্ষাব্যবস্থাকে সেভাবে সাজানোর ওপর গুরুত্ব দেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী। শিল্প খাতের চাহিদা অনুযায়ী তরুণদের প্রস্তুত করাকে সরকার অগ্রাধিকার দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সচিব ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ফিজিক্যাল সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশেষজ্ঞ ড. জুনায়েদ কাজী এবং ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের মানবসম্পদ পরিচালক সৈয়দা দুরদানা কবির।










