যশোর শহরের লালদীঘি পাড়ে বিএনপির কার্যালয় ও দলের স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য প্রয়াত তরিকুল ইসলামসহ জেলার চার শীর্ষ নেতার বাড়িতে হামলা ও ভাংচুরের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। গতকাল দুপুরে দলটির স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর নেতৃত্বধীন একটি প্রতিনিধি দল শহরের পিলু খান সড়কে বিএনপি নেতা প্রয়াত তরিকুল ইসলাম, বিএনপির জেলা কমিটির সদস্য সচিব সৈয়দ সাবেরুল হক, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খান এবং শহরের ধর্মতলা এলাকায় জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেনের বাড়ি পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা জেলা বিএনপি ও ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এরপর বিকালে যশোরে সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর অব্যাহত রাজনৈতিক সহিংসতা বিষয়ে শহরের লালদীঘিপাড়ে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জেলা বিএনপি।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, জনগণের রেভিনিউয়ের টাকা দিয়ে গুলি কিনে সরকারকে টেকানোর জন্য হাতিয়ার বাহিনী আছে। সে হাতিয়ার বাহিনীকেও মোকাবেলায় প্রস্তুত আছি।
বিএনপির কর্মসূচিতে বাধা দেয়া হবে না, প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, প্রধানমন্ত্রী যা বলেন তা করেন না, আর যা করেন তা বলেন না। এটা এক ধরনের প্রতারণা।
সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু। সমাপনী বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, কেন্দ্রীয় সদস্য সাবিরা নাজমুল, আবুল হোসেন আজাদ, খুলনা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এসএম শফিকুল আলম মনা, সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন, যশোর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান খান
প্রমুখ।
এদিকে বিএনপির চার নেতার বাড়িতে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি। দলের পক্ষ থেকেও থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা করা হয়নি। তবে সদর উপজেলার রূপদিয়া বাজারের ঘটনায় ৫৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সদর উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ফারুক হোসেনের করা মামলায় গ্রেফতার করা ২৮ জনকে রোববার আদালত কারাগারে প্রেরণ করেছে।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপির কার্যালয় ও অনিন্দ্য ইসলামের বাড়িতে হামলার ঘটনায় কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। যে কারণে কাউকে আটক করাও যায়নি।










