আতঙ্ক কাটিয়ে বগুড়ায় জনজীবন স্বাভাবিক হয়ে আসছে। খুলতে শুরু করেছে বিপণিবিতান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। তবে চারদিন ধরে বগুড়া সদর থানায় পুলিশ সদস্যরা কাজ শুরু না করায় সাধারণ মানুষ কিছুটা আতঙ্কে রয়েছে। অনেকেই রাতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পাহারা দিচ্ছেন। সেনাবাহিনীর সদস্যরা টহল জোরদার করায় আগের তুলনায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

শহরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, গতকাল জনসাধারণের ভিড় ছিল। তবে সদর থানায় গত চারদিনেও কোনো পুলিশ সদস্যকে দেখা যায়নি। বৃহস্পতিবার পুলিশ সদস্যরা তাদের নিরাপত্তা, পুলিশ হত্যার ঘটনায় বিচার চেয়ে ১১ দফা দাবি জানিয়েছেন। দাবি পূরণের পরই তারা কাজে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন। থানায় পুলিশ না থাকায় শহরের বিভিন্ন সড়কে ছিনতাই, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজির ঘটনাও ঘটছে। তবে গত কয়েকদিনে শহরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করলেও বৃহস্পতিবার থেকে মানুষ ঘর থেকে বের হতে শুরু করেছে। গতকাল সকালে বিভিন্ন বিপণিবিতান খোলা ছিল। শহরের রাজাবাজার, ফতেহ আলী বাজার, বড়গোলা, বাদুড়তলায় পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা দোকানপাট খুলেছেন। দূরপাল্লার যানবাহনও চলাচল করছে।

শিক্ষার্থীরা গত মঙ্গলবার থেকে শহরের সাতমাথা ও আশপাশের এলাকায় পরিষ্কার, পরিচ্ছন্নতা, দেয়াল চিত্র, গ্রাফিতি, বৃক্ষরোপণ, সড়ক নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করছেন। শুক্রবার শহরের বিভিন্ন মোড়ে ট্রাফিকের কাজ করতে দেখা গেছে তাদের।

রাকিবুল হাসান নামে এক শিক্ষার্থী জানান, ট্রাফিকিং করা সহজ কাজ নয়। অনেক মানুষকে সামলাতে হয়। সড়কে অনেক মানুষ অনেক সমস্যা নিয়ে বের হয়। কেউ ওষুধ আনতে, কেউ বাজার করতে, কেউ রোগীর কাজে, কেউ আয়-রোজগারে, কেউ কর্মস্থলে যান। সবারই প্রয়োজন। নানাজনের নানা সমস্যা। তার পরও তারা সবাইকে সহযোগিতা করছেন। এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা হয়নি। যানবাহন ঠিকমতোই চলাচল করছে।

রিকশাচালক রাজু মিয়া জনান, আগে ট্রাফিক একটু ভুল হলেই লাঠি দিয়ে আঘাত করত, গালাগাল করত, রিকশা ভাংচুর করত। কখনো কখনো আটক করত, আবার টাকা দিলে ছেড়েও দিত। এখন ছাত্ররা বুঝিয়ে দিচ্ছে। আর বলছে, এরপর ভুল না করে সহযোগিতা করবেন। শহরে চলাচল করতে কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। তবে রাতের বেলায় চলতে গিয়ে অনিরাপদ মনে হচ্ছে। অনেক স্থানে দুর্বৃত্তরা টাকা কেড়ে নিচ্ছে। আবার মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নিচ্ছে। তবে এখন সড়কে সেনা সদস্যরা টহল দিচ্ছেন বলে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসছে।

বগুড়া শহরের চা বিক্রেতা আব্দুস সালাম জানান, বৃহস্পতিবার রাতে কাজ শেষে ১২টায় বাড়ি ফেরার পথে কিছু যুবক তার কাছ থেকে ৮০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়। তবে অনুরোধ করার পর কিছু টাকা ফেরত দেয়।

বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সদস্য না থাকায় নিরাপদ থাকছে না রাতের পরিবেশ। ভয় ও শঙ্কা কাজ করছে। আবার ডাকাতির ঘটনাও ভাবিয়ে তুলছে। শহরের বাদুড়তলা, নিউমার্কেট, রাজাবাজার, চেলোপাড়া, জলেশ্বরীতলা, ঠনঠনিয়াসহ বেশকিছু এলাকায় স্থানীয়রা নিজেরাই নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। তারা নিজেদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পাহারা দিচ্ছে রাত জেগে।

ফতেহ আলী বাজার এলাকার ব্যবসায়ী মাজেদুর রহমান জানান, একটি কমিটি গঠন করে তিনদিন ধরে রাত জেগে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পাহারা দিচ্ছেন তারা। কোথাও কোথাও আবার নৈশপ্রহরীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশ না থাকায় এ ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেনা সদস্যরা টহল দিচ্ছেন বলে আগের মতো আতঙ্ক আর নেই। স্বাভাবিক হচ্ছে শহর। লোকজন বাড়ছে বলে ভয়ও কমে যাচ্ছে।

বগুড়া পৌরসভার মেয়র ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা জানান, এখন অনেক এলাকায় ভয় কমে আসছে। বিএনপি ও অন্য দলের নেতারা কাজ করছেন। বিভিন্ন স্থানে দলীয় কর্মীদের দিয়ে পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেন কোনো ব্যক্তি লুটপাট, অগ্নিসংযোগ করার সুযোগ না পায়। সে হিসেবে বগুড়া পৌর এলাকা এখন আতঙ্ক অনেকটা কম। নেই বললেই চলে।