পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সেলিম মাতবরের (রাশেদ) ব্যক্তিগত চেম্বারে ভুল চিকিৎসায় আলী বাবর নামে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর বাম হাত বাঁকা হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিচার চেয়ে ভুক্তভোগী শিশুর পিতা সিকদার নোমান ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে পটুয়াখালী সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। এ ঘটনায় গতকাল সকালে বিচার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে পটুয়াখালী জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সিকদার নোমান।
সংবাদ সম্মেলনে সিকদার নোমান বলেন, ‘গত ১৭ জানুয়ারি আমার ছেলে পা পিছলে পড়ে গিয়ে তার বাম হাত ভেঙে যায়। আমি প্রথমে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসি। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে বলা হয়, এ চিকিৎসা এখানে হবে না, আপনারা ডাক্তার সেলিম মাতবরের ব্যক্তিগত চেম্বার চাঁদনী ফার্মেসিতে নিয়ে যান। আমি দ্রুত সেখানে নিয়ে গেলে ডাক্তার সেলিম মাতবর জানান, এটি খুব জটিল কেস অপারেশন করতে হবে। এজন্য তিনি আমার কাছে ৬০ হাজার টাকা দাবি করেন। আমি তাৎক্ষণিক ডাক্তারকে ৪০ হাজার টাকা পরিশোধ করি। ২৪ জানুয়ারি হাতের প্লাস্টার খোলার দিন বাকি ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করি। তবে আমার ছেলে হাতের অপারেশন যেভাবে করার কথা ডাক্তার সেভাবে করেননি। ৩০ জানুয়ারি ডাক্তারের চেম্বারে নিয়ে গেলে তিনি পুনরায় এক্স-রে করেন এবং আরো কিছু ওষুধপত্র দিয়ে দেন, কিন্তু বাড়ি ফিরে আমার সন্তান ব্যথায় চিৎকার করতে থাকে। আমি ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক তানভীর মাহমুদের দশমিনা চেম্বারে দেখাই। তিনি রিপোর্ট দেখে দ্রুত আমার ছেলেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থোপেডিকস বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ডা. এএফএম রুহুল হককে দেখাতে বলেন। আমি গত ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাকে দেখালে তিনি সব চিকিৎসাপত্র দেখে বলেন, ‘ডা. সেলিম মাতবরের চিকিসা ব্যবস্থা সঠিক ছিল না। এমন অবস্থায় আমার সন্তানের বাম হাতটি পঙ্গু হয়ে গেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. সেলিম মাতবর বলেন, ‘আমি যতটুক বইপত্র পড়েছি তাতে আমি কোনো ভুল চিকিৎসা করিনি। আর যেসব চিকিৎসক বলছেন আমি ভুল চিকিৎসা করেছি, তারা কি কোনো লিখিত দিয়েছেন? আমি শুনেছি মামলা হয়েছে, তবে মামলার কাগজপত্র এখনো পাইনি। কাগজপত্র পেলে আদালতে আমার বক্তব্য উপস্থাপন করব।’










