দখল আর দূষণে কমছে বুড়িগঙ্গার প্রশস্ততা, কমছে প্রাণপ্রবাহ। এর মধ্যে নদীর জায়গা দখল করে পোস্তগোলা শ্মশানঘাট এলাকায় গড়ে উঠছে নানা স্থাপনা। উচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ২০১০ সালে ওই এলাকায় প্রথম অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযান চালায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। কয়েকদিন পর আবার বেদখল হয়ে যায় ঘাটটি। দীর্ঘ নয় বছর পর ২০১৯ সালে সরকারের সংস্থাটি নতুন করে উচ্ছেদ অভিযান চালায়। দখলমুক্ত করে বুড়িগঙ্গার সাত বিঘা জমি। এবারো কয়েকদিনের মাথায় তা আবার বেদখল হয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী রক্ষার দায়িত্বে যারা রয়েছেন তাদের ম্যানেজ করেই বহাল তবিয়তে দখলদাররা। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পোস্তগোলা শ্মশানঘাটটি ইবরাহিম আহাম্মেদ রিপন নামে স্থানীয় এক প্রভাবশালীর দখলে। কখনো ভাইয়ের নামে, কখনো স্টাফের নামে ঘাট ইজারা নেন তিনি। ইজারার শর্ত ভেঙে ব্যবহার করেন অন্য কাজ। কাগজে-কলমে ঘাটটির বর্তমান ইজারাদার মো. রেজাউল ইসলাম, যিনি রিপনেরই অফিসের স্টাফ। 

বিআইডব্লিউটিএর নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, ঘাটটির পয়েন্ট হিসেবে লেখা আছে—মিলব্যারাক থেকে শ্মশানঘাট পর্যন্ত শুল্ক আদায় ও লেবার হ্যান্ডলিং পয়েন্ট। আরসিন গেট থেকে মিরেরবাগ ও মিলব্যারাক থেকে চরমিরেরবাগ পয়েন্ট ফেরিঘাট। এর মধ্যে মিলব্যারাকের পশ্চিম সীমানা অর্থাৎ গেন্ডারিয়া খালের পূর্ব দিক শ্মশানঘাট পর্যন্ত এলাকায় সব ধরনের নৌযানের বার্থিং চার্জসহ মালামাল পরিবহনের শুল্ক ও লেবার হ্যান্ডলিং চার্জ এবং ফেরিঘাটে খেয়া নৌকায় যাত্রী ও মালামাল পরিবহনের শুল্ক আদায় করার দায়িত্ব ইজারাদারের।

সম্প্রতি সরজমিন দেখা যায়, পোস্তগোলা শ্মশানঘাটসহ বুড়িগঙ্গার ফোরশোর এলাকায় জাহাজের যন্ত্রাংশ ফেলে রাখা হয়েছে। এসব ঘিরেই শ্রমিকদের ব্যস্ততা। নদীর ফোরশোরের মধ্যেই নির্মাণ করা হয়েছে ইজারাদারের অফিস। বিভিন্ন জায়গা থেকে জাহাজের যন্ত্রাংশ নিয়ে আসছে ট্রলার। 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ঘাটটি ইজারার শর্তভঙ্গ করে প্রভাবশালী ইবরাহিম আহাম্মেদ রিপন ব্যবহার করছেন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি ঘাটটিতে একসময় অবৈধ বালির ব্যবসা করতেন। বর্তমানে চলছে জাহাজের যন্ত্রাংশ ভাঙার কাজ। 

ইজারার শর্তভঙ্গের বিষয়ে জানতে চাইলে ইবরাহিম আহাম্মেদ রিপন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘একসময় এখানে বালির ব্যবসা ছিল। এখন লোহার ব্যবসা করছি। পাশেই লোহার মার্কেট। হিসাব-নিকাশ ও অন্যান্য কাজের জন্য একটি অফিস করেছি।’ 

নদীর ফোরশোরে স্থাপনা নির্মাণের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অফিস যদি না থাকে তাহলে কীভাবে আমরা কাজ করব। রাস্তায় দাঁড়িয়ে তো আর কাজ করা সম্ভব নয়। বিআইডব্লিউটিএর স্থাপনাও নদীর ফোরশোরে রয়েছে।’ 

বিআইডব্লিউটিএর বন্দর ও পরিবহন বিভাগের যুগ্ম পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিন যদিও বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পোস্তগোলা ‌শ্মশানঘাটে এখন আর কোনো অবৈধ স্থাপনা নেই। জাহাজ ভাঙার যন্ত্রাংশও নেই। আমরা উচ্ছেদ অভিযান চালানোর পর সেখানে আর কোনো স্থাপনা নেই।’