চাঁদপুরে জুলাই পদযাত্রা ও শোক র্যালিতে আওয়ামী লীগকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ভবিষ্যতে বাংলার মাটিতে আর আওয়ামী লীগের উত্থান হবে না। এজন্য সবাইকে এখন থেকেই সজাগ থাকতে হবে।
বুধবার (১৪ জুলাই) সকাল ১১টায় চাঁদপুর শহরের তালতলা এলাকায় এনসিপির জুলাই পদযাত্রা ও শোক র্যালির সূচনা বক্তব্যে তিনি বলেন, আমরা একসঙ্গে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। তবে এই সরকারের প্রতি আমাদের যে প্রত্যাশা ছিল, তা দিনে দিনে কমে যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য উপদেষ্টার সমালোচনা করে তিনি বলেন, যিনি নিজেই চিকিৎসার জন্য বিদেশে যান, তিনি দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কী পরিবর্তন আনবেন? ড. ইউনূস স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নিয়োগ দিয়ে স্পষ্টভাবে স্বজনপ্রীতির পরিচয় দিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, সরকার মাইলস্টোনে বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের ওপরও রাজনীতি করতে চেয়েছিল। কিন্তু আমরা তা হতে দিইনি। এখন সময় এসেছে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সবার ঐক্যবদ্ধভাবে অবস্থান নেয়ার।
উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, খুনি হাসিনার সহযোগীরা স্কুলের শিশুদের ব্যবহার করে রাজনীতি করতে চেয়েছিল। কিন্তু বাংলার মানুষ তা করতে দেয়নি। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিচার হবেই। যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অপরাধীদেরও বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। তারা আর বাংলার মাটিতে ফিরতে পারবে না।
এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা নাসির পাটোয়ারী বলেন, চাঁদপুরে কোনো সন্ত্রাসীকে প্রশ্রয় দেয়া হবে না। হাসিনার মতো স্বৈরাচার কায়েম করতে দেয়া যাবে না।
তিনি আরো বলেন, আমরা আজ শোকের আবহে এই পদযাত্রায় অংশ নিচ্ছি। এটি এখন একটি শোক র্যালিতে পরিণত হয়েছে। নৌ ও বিমান বাহিনীর দুরবস্থার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই বাহিনীগুলোকে উন্নয়নের দিকে নিয়ে যেতে হবে। বিগত সরকার এগুলোকে দুর্নীতিতে নিমজ্জিত করেছে।
সভায় আরো বক্তব্য দেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব মুহাম্মদ মিরাজ মিয়া, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব আলম, দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক আরিফ তালুকদার, চাঁদপুর জেলা কমিটির আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান এবং কেন্দ্রীয় নেতারা মো. মিরাজ মিয়া, জাহান বিন্দু, মেহেদী হাসান তানিম ও তামিম খান।
এছাড়া অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের এনসিপি নেতাকর্মীরা ছিলেন। পদযাত্রার আগে সকাল ৯টায় সার্কিট হাউজে শহীদ পরিবারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন দলের শীর্ষ নেতারা। দুপুর দেড়টায় হাজীগঞ্জে শহীদ আজাদ চত্ত্বর উদ্বোধন করেন তারা। এরপর বিকালে শাহরাস্তির দোয়াভাঙ্গা এলাকায় পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে তারা কুমিল্লার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।










