জেলা ও মহানগর মিলিয়ে গাজীপুরে থানা রয়েছে ১৩টি। সোমবার শেখ হাসিনা পদত্যাগের পর থেকেই বন্ধ ছিল এসব থানার কার্যক্রম। এরই মধ্যে সীমিত পরিসরে সারা দেশে ৫৩৮ থানায় কার্যক্রম শুরু করেছে পুলিশ। গতকাল পর্যন্ত গাজীপুরে নয়টি থানার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সীমিত পরিসরে এসব থানার কার্যক্রম শুরু হওয়ায় পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। থানার নিরাপত্তায় সেনা সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও পাহারা দিচ্ছেন।

গাজীপুর মহানগর ও জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর সদর থানা, টঙ্গী পূর্ব, টঙ্গী পশ্চিম, পুবাইল, কোনাবাড়ী, কাশিমপুর, গাছা, কাপাসিয়া ও কালীগঞ্জ থানার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এসব থানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পুলিশ সদস্যদের মনোবল বাড়ানোর জন্য সেনাবাহিনীর একটি করে টিম মোতায়েন করা হয়েছে। ফলে থানাগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং জনগণও তাদের নাগরিক সেবা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে বাকি থানার কার্যক্রমও শুরু হবে বলে জানা গেছে।

যোগাযোগ করা হলে গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) আহবারউজ্জামান বলেন, ‘গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানা ছাড়া অন্য সব থানায় স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে থানাগুলোর কর্মকর্তারা পৌঁছেছেন। মহানগরীর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনা কর্মকর্তা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও অন্যান্য স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন জেলা প্রশাসক। সবাই থানাগুলোয় পুলিশের কার্যক্রম শুরু করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন এবং সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে মহানগরের ছয়টি থানায় ওসি পদে রদবদল করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, সবার সহযোগিতায় থানা পুলিশের কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে মহানগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।’

পুলিশ সুপার কাজী শফিকুল আলম বলেন, ‘সেনা সদস্যদের সহায়তায় গাজীপুর জেলা পুলিশের অধীন কাপাসিয়া ও কালীগঞ্জ থানার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এ কার্যক্রমে ১০ জন সেনা সদস্য ও পাঁচজন আনসার সদস্য পুলিশকে সহযোগিতা করবেন।’