ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি
ও সদ্য সাবেক মেয়র ইকরামুল হক টিটু ঘড়ি প্রতীক নিয়ে এগিয়ে রয়েছেন। তার নিকটতম
প্রতিদ্বন্দী ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ঘোড়া প্রতীক নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে
রয়েছেন। ইকরামুল হক টিটুর সমর্থকরা বিকfল থেকেই খণ্ড খণ্ড বিজয় মিছিল নিয়ে নগরীর বিভিন্ন
স্থানে মিষ্টি বিতরণ করছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
শনিবার (৭ মার্চ) ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দিনভর কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে প্রতিটি কেন্দ্রেই নারী-পুরষের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। নগরীর ৩১নং ওয়ার্ডের ঋষিপাড়া এলাকার ভোটার বকুল দাস বলেন, যাকে যোগ্য মনে করেছি এবং যে আমাদের জন্য কাজ করবে তাকে ভোট দিয়েছি। চর ঈশ্বরদিয়া মধ্যপাড়ার বাসিন্দা শাহজাহান বলেন, এ নির্বাচনে সবাই ভোট দিতে আসছে। এটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন। আগে যে নির্বাচন হয়েছে সে নির্বাচনগুলোয় ভোট দিতে মানুষের আগ্রহ ছিল না। সকাল থেকে কেন্দ্রে ভোটারদের ভিড় দেখে মনে হয়েছে ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল প্রতিটি এলাকায়।
চর ঈশ্বরদিয়া মুন্সিবাড়ি এলাকার মজিবুর রহমান বলেন, আগের ভোটের সময় এত ভোটার কেন্দ্রে আসতে দেখিনি। মানুষ উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ভোট দিচ্ছে।
৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আসাদুজ্জামান জামাল বলেন, ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চেয়েছি। তাই ভোটারদের এত বেশি উপস্থিতি। আমি শতভাগ নিশ্চিত আমি নির্বাচিত হব।
নিউ টাউন মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রিজাইডিং অফিসার বিপি রায় বলেন, আগের অনেক নির্বাচনের চেয়ে এ নির্বাচনে ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী বলেন, নির্বাচন সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল। কোথাও সমস্যা হয়নি। দুপুর পর্যন্ত নির্বাচনে ৫ মেয়র প্রার্থী ছাড়াও নগরীর ৩২টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৪৮ এবং ১১টি সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে প্রার্থী আছেন ৬৯ জন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ায় ১১ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদের নির্বাচন হয়নি। নগরীর ৩২টি ওয়ার্ডের ১২৮টি ভোট কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
তবে ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার পর নগরীর বিভিন্ন কেন্দ্রে শনিবার সকাল
থেকে ইভিএম মেশিনে বেশ কয়েকজন নারীকে আঙুলের ছাপ ঠিকমতো না ওঠায় ভোট দেয়ার সময় বিড়ম্বনায়
পড়তে হয়েছে। পরে জাতীয় পরিচয়পত্র এনে তাদের ভোট দিতে বলা হয়। এ ছাড়া বয়স্ক পুরুষদের
ইভিএম নিয়ে ধারণা না থাকায় ভোট দিতে গিয়ে তারা বেশি সময় নিচ্ছেন। তবে ভোটগ্রহণ নিয়ে
মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। অনেকে ইভিএমে ভোট দেয়া খুবই সহজ বলে মন্তব্য করেছেন। আবার বিড়ম্বনার কারণে ভোট গ্রহণে ধীরগতিতে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে এমন ভোগান্তির চিত্র দেখা যায়। মহাকালী গার্লস স্কুল ও কলেজ কেন্দ্রে উৎসব মুখর পরিবেশে নারী ভোটারদের ভোট দিতে দেখা গেছে। এ প্রতিষ্ঠানটিতে নারীদের জন্য দুটি কেন্দ্রের ব্যবস্থা রয়েছে। একটি কেন্দ্রে ভোটার ১ হাজার ৫৬০ জন, অপর কেন্দ্রে ২ হাজার ৪৬০ জন।
আগ্রহ নিয়ে ভোটকেন্দ্রে এসেছেন নারী ভোটাররা।
তবে ইভিএম মেশিনে অনভ্যস্ত ভোটারদের ভোট দিতে বেশি সময় লেগেছে। অনেকের আঙুলের ছাপ না
মেলায় ভোটগ্রহণে ধীরগতি দেখা দেয়।
নগরীর প্রিমিয়ার আইডিয়াল স্কুল কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ৮টায় ভোট দিতে
যান কালিবাড়ী এলাকার বাসিন্দা মাহমুদা খাতুন। তিনি বলেন, ভোট দিতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে
হয়। মেশিনে আঙুলের ছাপ ওঠেনি। দায়িত্বরত লোকজন বলেছেন, বাড়ির কাজ করার কারণে আঙুলের
ছাপ মিলছে না। জাতীয় পরিচয়পত্র এনে আমাকে ভোট দিতে বলা হয়েছে। একই কথা বলেন আরেক ভোটার
রাহেলা খাতুন।
মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদ্য সাবেক মেয়র ইকরামুল হক টিটু সকাল
১০টায় নগরীর প্রিমিয়ার হাইস্কুল কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন।
একই সময় নগরীর এডওয়ার্ড ইনস্টিটিউট ভোট কেন্দ্রে ভোট দেন মহানগর আওয়ামী
লীগের উপদেষ্টা সাদেকুল হক খান মিল্কী টজু।
ইভিএম নিয়ে ভোগান্তির কথা জানান সদ্য সাবেক মেয়র ইকরামুল হক টিটু।
ভোট দিতে তাকেও একাধিকবার আঙুলের ছাপ দিতে হয়েছে।
হাতি প্রতীকের আরেক মেয়র প্রার্থী সাদেকুল হক খান মিল্কী টজু বলেন,
ইভিএমে ভোট নিয়ে ধীরগতি পুরোনো সমস্যা। এটি মেনেই ভোট চলেছে। তবে অনেকের মধ্যে মিশ্র
প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। অনেক ভোটার বলেছেন, এবার ইভিএমের মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে ভোট অনুষ্ঠিত
হয়েছে। এখানে জাল ভোট হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই।
আমিনুল ইসলাম নামের ভোটার বলেন, চাপ দিতেই কম্পিউটারে সব কিছু বলে
দিয়েছে। সহজেই ভোট দিয়েছি।
প্রিমিয়ার আইডিয়াল স্কুল কেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার কাজল
চন্দ্র দাস বলেন, নারী ভোটারদের আঙুলের ছাপ নিতে একটু সমস্যা হওয়ায় একটু সময় বেশি লেগেছে।
এছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হয়েছে।
নির্বাচনে র্যাব, বিজিবি, এপিবিএন, আনসার ব্যাটালিয়ন ও সাধারণ আনসার
মিলে ৪ হাজার ৫শ জন নিরাপত্তায় ছিলেন। এছাড়াও ১১জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ৩৩ জন
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেন।










