উজানে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। তিনদিনের বৃষ্টির পূর্বাভাসে নদীতীরবর্তী এলাকায় দেখা দিয়েছে বন্যার আশঙ্কা। তীরবর্তী মানুষের জানমাল ও কৃষিসম্পদ রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সতর্কতা জারি করেছে।
পাউবো সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সারা দিনে উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার ও কাউনিয়া পয়েন্টে ১৪ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। গতকাল বেলা ৩টায় ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৯ সেন্টিমিটার নিচে ও কাউনিয়া পয়েন্টে ৩৪ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হয়েছে।
পাউবোর পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গতকাল থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রংপুর বিভাগ এবং এর পার্শ্ববর্তী সীমান্তের ওপারে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে রংপুর বিভাগের তিস্তা, দুধকুমার ও ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। পাশাপাশি নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল, চর ও দ্বীপচর প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে সতর্কতা জারি করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি আবহাওয়া তথ্য ইউনিটও। তিস্তা নদীবেষ্টিত লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় সেসব এলাকার কৃষকদের পরিপক্ব সবজি দ্রুত সংগ্রহ করা, জমি থেকে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন করা, জলাবদ্ধতা এড়াতে নিষ্কাশন নালা তৈরি করা, আমন ধানের জমির নালা পরিষ্কার রাখা, জমির আইল উঁচু করা, সেচ, সার ও বালাইনাশক প্রয়োগ বন্ধ রাখা, কলা ও দণ্ডায়মান সবজির জন্য খুঁটির ব্যবস্থা করা, আখের ঝাড় বেঁধে দেয়া, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির খামার শুকনো রাখা এবং পুকুরের চারপাশে বাঁধ উঁচু করে দেয়া ও মাছ রক্ষায় জাল বা বাঁশের চাটাই দিয়ে ঘিরে রাখার পরামর্শ দিয়েছে তারা।
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, ‘আমার পুরো ইউনিয়নই তিস্তা নদীবেষ্টিত। নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। বিষয়টি আমি নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের জানিয়েছি এবং উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে।’
রংপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘উজানে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে আগামী তিনদিন তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। এ তথ্য নদীতীরবর্তী এলাকায় পৌঁছে দেয়া হয়েছে।’










