কুমিল্লার হোমনায় মাইকে ঘোষণা দিয়ে চারটি মাজারসহ বেশকিছু স্থাপনায় হামলা, ভাংচুর ও আগুন দেয়ার ঘটনায় মামলা করেছে পুলিশ। তবে মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হলেও তাদের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। বৃহস্পতিবার রাতে হোমনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তাপস কুমার সরকার বাদী হয়ে মামলাটি করেন। হামলার ঘটনায় জড়িত ও উসকানিদাতাদের কাউকে আটক বা গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

গতকাল সকালে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার সহকারী পুলিশ সুপার (হোমনা সার্কেল) মো. আবদুল করিম। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’

এর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মীয় উসকানিমূলক পোস্টকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকালে মাইকে ঘোষণা দিয়ে চারটি মাজারে হামলার ঘটনা ও ভাংচুরের ঘটে। এর মধ্যে একটি মাজারের আঙিনায় থাকা তিনটি বসতঘর ভাংচুর শেষে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলেক শাহর ছেলে মহসিন তার ফেসবুকে আইডি থেকে বুধবার সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে ধর্মীয় উসকানিমূলক একটি পোস্ট করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় স্থানীয় একদল মানুষ হোমনা থানার সামনে জড়ো হয়ে মহসিনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করে। পরে ওইদিন দুপুরেই পুলিশ মহসিনকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনা হোমনা উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে গতকাল সকালে মহসিনকে কুমিল্লার আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ। এর আগে গত ২৯ আগস্টও মহসিন ফেসবুকে ধর্মীয় অবমাননামূলক পোস্ট করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

চারটি মাজারে হামলার পরও ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা কেন মামলা করেননি- জানতে চাইলে সহকারী পুলিশ সুপার (হোমনা-মেঘনা সার্কেল) আবদুল করিম বলেন, ‘এ বিষয়ে তারাই ভালো বলতে পারবেন। ঘটনার পর আমরা অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেছি। কিন্তু মাজারগুলোর পক্ষ থেকে কেউ মামলা করতে আসেনি। পরে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে।’