তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশে চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসন সম্ভব বলে মনে করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর একে অন্যের প্রতি যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে তাতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারই একমাত্র সমাধান। গতকাল ঠাকুরগাঁওয়ে জেলা বিএনপির বর্ধিত সভার আগে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশের যে সংস্কৃতি, রাজনৈতিক দলগুলোর একে অন্যের প্রতি অনাস্থা তাতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার একমাত্র সমাধান। যার মাধ্যমে আমরা এ রাজনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে পারি এবং সবার অংশীদারত্বে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারি। এর আগে পার্লামেন্টারি এক কমিটিতে আওয়ামী লীগও মতামত দিয়েছিল যে দেশে আরো দুটি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হওয়া উচিত।’
এ সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেন বিএনপির এ শীর্ষ নেতা। তিনি বলেন, ‘হাইকোর্টে একটি রিট করা হয়েছিল। সেখানে নয়জনকে ডাকা হয়েছিল। তাদের মধ্যে আটজনই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে কথা বলেন। আমরাও বলি, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট এড়াতে একমাত্র সমাধান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন।’
নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ নেতাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনকালে নিরপেক্ষ সরকারে আওয়ামী লীগের আপত্তির একটাই কারণ, সেটা হলো তারা জানে যদি নিরপেক্ষ সরকারের অধীন নির্বাচন হয়, তাদের কারো জামানত থাকবে না। ৩০টির বেশি আসনও তারা পাবে না।’
সম্প্রতি পঞ্চগড়ের আহমদিয়া সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা সরকারের পাতানো বলেও অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘সরকারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদেই এ ঘটনা ঘটেছে। এর দায়ভার সম্পূর্ণ সরকারকেই নিতে হবে। এটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। এ ঘটনার কারণে দেশের ভাবমূর্তির পাশাপাশি সরকারের ভাবমূর্তিও অনেক বেশি ক্ষুণ্ন হয়েছে।’
পঞ্চগড়ের ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত দাবি করে তিনি আরো বলেন, ‘দেশে এখন গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন শুরু হয়েছে। এ আন্দোলন যখন পুরোপুরি বিস্ফোরণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন সরকার পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটিয়ে জনগণের দৃষ্টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চায়। বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে চায়। তা না হলে ঘটনার পরপরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কীভাবে বলতে পারলেন যে এটা বিএনপির কাজ?’
আহমদিয়া সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা কাজে লাগিয়ে সরকার বিএনপি নিধনে নেমেছে বলেও অভিযোগ করেন দলটির মহাসচিব। তার অভিযোগ, হামলার পর যখন রেলমন্ত্রী আক্রান্তদের বাড়িতে যান তখন তারা অভিযুক্ত কয়েকজনের নাম বললেও তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়নি। এ ঘটনায় কয়েকটি গণমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হয় বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমের সবসময় নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করা উচিত। গণমাধ্যম যদি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন না করে, তাহলে জনগণ কিন্তু মনে রাখে। যখন সময় আসে, তখন সেগুলোর উপযুক্ত জবাব জনগণই দেয়।’










