নড়াইল ১০০ শয্যার আধুনিক সদর হাসপাতালে মাত্র ১১ জন চিকিৎসক কর্মরত। ফলে জোড়াতালি দিয়ে চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম। চিকিৎসক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে সেবা কার্যক্রম। সামান্য সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে এলেও রোগীকে পাঠানো হচ্ছে পাশের জেলা যশোর, খুলনা অথবা রাজধানী ঢাকায়। এতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের দুর্ভোগ  যেমন বেড়েছে, তেমনি অতিরিক্ত অর্থও গুনতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১০০ শয্যার হাসপাতালে বিশেষজ্ঞসহ চিকিৎসক থাকার কথা ৪১ জন। সেখানে আছেন মাত্র ১১ জন। নার্স, টেকনিশিয়ান, অ্যাসিস্ট্যান্ট ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীর ১৬৩টি পদের বিপরীতে ১০৭টি পদে জনবল থাকলেও ৫৬টি পদ শূন্য রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। ১০০ শয্যার এ হাসপাতালে গত বছর গড়ে প্রতিদিন ভর্তি ছিল ২৩৭ রোগী। আর আউটডোরে প্রতিদিন চিকিৎসা নিয়েছে ৫৫০ রোগী। গত বছর এ হাসপাতালে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট অপারেশন করা হয়েছে ৮ হাজার ৬৯০ জন রোগীর।   

সরেজমিনে সম্প্রতি হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালের টিকিট কাউন্টারে শতাধিক রোগীর ভিড়। এখানে টিকিট নিতে আসা সদরের বাঁশগ্রামের কামরুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, এর আগে একদিন হাসপাতালে টিকিট নিতে এলেও জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে না থাকার কারণে তাকে হাসপাতালের টিকিট দেয়া হয়নি। এবার তিনি জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে এনে কিছু সময় লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট পেয়েছেন।

মূলদাইড় গ্রামের হাবীবুর বারী জানান, টিকিট কাটার পর ১ ঘণ্টারও বেশি সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ডাক্তার দেখিয়েছি। চেম্বারে রোগীর অনেক চাপ থাকায় অসুখের কথা ভালো করে না শুনেই তড়িঘড়ি করে ব্যবস্থাপত্র হাতে ধরিয়ে দিয়েছেন চিকিৎসক।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক রোগী জানান, দিনে একবার ডাক্তার আসেন। একজন রোগীকে কোনো ডাক্তারই ১-২ মিনিটের বেশি সময় দেন না।

নড়াইল সদর উপজেলার দুর্গাপুর এলাকার জিএম খাজা মিয়া জানান, তার ছেলে কয়েকদিন আগে পেটে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে এলে তাকে যশোর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়। অথচ যশোরে নেয়ার পর চিকিৎসকরা বলেছেন, তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। আক্ষেপের সঙ্গে তিনি বলেন, ‘পেটে ব্যথা নিয়ে এলেও যদি আধুনিক এ হাসপাতালে চিকিৎসা না পাই তাহলে আমাদের মতো স্বল্প আয়ের মানুষের চিকিৎসা নেয়া সম্ভব হবে না।’

জেলার একমাত্র আধুনিক সদর হাসপাতালটি ২০০৭ সালে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেয়া হলেও আজ পর্যন্ত তা ৫০ শয্যারও ঘাটতি লোকবল দিয়ে চলছে। অবকাঠামোগত কিছু উন্নয়ন হলেও অন্যদিকগুলোর কোনোই উন্নয়ন হয়নি। ভেতরের বাথরুমের গন্ধে ভর্তি থাকা রোগীরা সবসময় ওয়ার্ডের জানালা-দরজা বন্ধ করে রাখেন। হাসপাতালের ময়লা-আবর্জনায় ভরা চারদিক, ড্রেনগুলোয় মশার বিস্তার ঘটছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুল গফফার বলেন, ‘আমি এখানে নতুন এসেছি। দীর্ঘদিন ধরে এখানে জনবল সংকট রয়েছে। বর্তমানে এক-চতুর্থাংশ ডাক্তার দিয়ে চলছে এ হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা। ফলে রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারছি না। তবে সাধ্যমতো চেষ্টা করছি রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে। চিকিৎসক চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কোনো             সুরাহা হয়নি।’