ঘন কুয়াশার কারণে ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে চাঁদপুর-নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা নৌপথ। চাঁদপুর লঞ্চঘাট থেকে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে ছেড়ে যাচ্ছে এ রুটের নৌযানগুলো। কুয়াশায় কার্যকরী হয় এমন কোনো আধুনিক যন্ত্রপাতি নেই লঞ্চগুলোয়।
ঘন কুয়াশার কারণে ছোটখাটো দুর্ঘটনার পাশাপাশি প্রায়ই চরে আটকা পড়ছে নৌযান। পাশাপাশি ঘন কুয়াশার কারণে নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে পারছে না লঞ্চগুলো। ফলে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন লঞ্চযাত্রীরা।
এদিকে বিআইডব্লিউটিএ ঘন কুয়াশায় নৌযান পরিচালনা সম্পর্কিত জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। অভ্যন্তরীণ নৌপথে চলাচলকারী সব নৌযানের মাস্টার, ড্রাইভার, সুকানি ও গ্রিজারসহ সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নৌ-চলাচল বিধিমালা ২০০১ অনুসরণে কুয়াশার শব্দ সংকেতসহ প্রযোজ্য অন্য বিধানাবলি ও নির্দেশনাবলি অনুসরণপূর্বক নৌযান পরিচালনা করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাছাড়া জরুরি প্রয়োজনে বিআইডব্লিউটিএর কল সেন্টার ১৬১১৩ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য বলা হয়েছে। ঘন কুয়াশায় দিনের বেলায়ও যাত্রীবাহী নৌযান, লঞ্চের নিরাপত্তায় বালিবাহী, মালবাহী কার্গোসহ
প্রয়োজনে নৌ-চলাচল বন্ধ রাখতে হবে বলে নির্দেশনা দেয়া হয়।
এছাড়া নৌ-দুর্ঘটনারোধে লঞ্চ মনিটরিংয়ে পাঁচটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটির সদস্যরা লঞ্চ পরিদর্শনসহ দুর্ঘটনারোধে কাজ করবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতি বছর শীত মৌসুমে ঘন কুয়াশার কবলে পড়ে যাত্রীবাহী লঞ্চ, লাইটার জাহাজ ও মালবাহী ট্রলারসহ বিভিন্ন নৌযান ডুবোচরে আটকা পড়ে। চাঁদপুরের মেঘনা নদীর পশ্চিম দিকে রয়েছে প্রায় ৩০টি চর। ঘন কুয়াশায় প্রতি বছরই এ চরের মধ্যে লঞ্চ আটকা পড়ে। তাছাড়া মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে আনন্দবাজার, চাঁদপুর-হিজলা, চাঁদপুর-নন্দির বাজার, চাঁদপুর-মাদারীপুর, চাঁদপুর-মাওয়া রুটেও শীত মৌসুমে অনেক নৌযান চরে আটকা পড়ে।
অন্যদিকে পদ্মা ও মেঘনা নদীতে বাল্কহেড চলে বেপরোয়া। বাল্কহেডের ধাক্কায় প্রায়ই বিকনবাতি ও বয়ার যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। লঞ্চের মালিকরা মনে করেন, শীতের রাতে নদীতে লঞ্চ চলাচলে বড় বাধা অবাধে বাল্কহেড চলাচল। এটি বন্ধ হলে লঞ্চ চলাচলে ঝুঁকি কমবে।
চাঁদপুর নৌ-থানার ইনচার্জ মো. কামরুজ্জামান জানান, ঘন কুয়াশার কারণে ঢাকা থেকে কিছু লঞ্চ বিলম্বে গন্তব্যে আসছে।
চাঁদপুর বন্দর কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন জানান, বয়া ও বিকন বাতি দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে নৌ-সংরক্ষণ ও পরিবহন বিভাগ। এ বিভাগের কর্মীরা প্রতিনিয়ত চর, ডুবোচর ও নৌপথ সার্ভে করে আসছেন।










