দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর চিকিৎসার মান বাড়াতে এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পরিদর্শন ও তদারকির দায়িত্ব পেয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ৫৪ কর্মকর্তা। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের প্রশাসন শাখা থেকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর জারি করা এক অফিস আদেশে তাদের এ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ, বিশেষায়িত হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতাল পরিদর্শন করবেন তারা। আজ রোববার (৪ অক্টোবর) এসব তথ্য জানা যায়।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব ও উপসচিব পর্যায়ের কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট হাসপাতাল এবং জেলা ও বিভাগের হাসপাতাল তদারকি করবেন। কিছু কর্মকর্তাকে নিজ জেলার পাশাপাশি পাশের অন্য জেলার অতিরিক্ত দায়িত্বও দেয়া হয়েছে।

দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিজ এলাকার হাসপাতালের জনবল, পরিচ্ছন্নতা, চিকিৎসা সরঞ্জাম, অবকাঠামো উন্নয়ন ও নিরাপত্তা বিষয়ে কাজ করবেন। স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে তারা হাসপাতাল প্রধানদের সঙ্গে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নেবেন।

কর্মকর্তাদের নিয়মিত ডিজিটাল হাজিরা তদারকি করতে বলা হয়েছে। চিকিৎসক ও অন্য কর্মীদের উপস্থিতির তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে।

মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের টিকাদান কর্মসূচি, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও সচেতনতা তৈরিতে কাজ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন ও উপজেলা নির্বাহীদের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা কাজ করবেন।

অফিস আদেশে মা ও শিশুস্বাস্থ্য, প্রবীণ স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টি কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসাসেবার মান বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নেয়ার বিষয়ে উৎসাহিত করার নির্দেশ রয়েছে।

দায়িত্ব পাওয়া কর্মকর্তাদের নিয়মিত এলাকা পরিদর্শন করতে হবে। পরিদর্শনের সময় যেসব সমস্যা চিহ্নিত হবে, সেগুলো সমাধানের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

কর্মকর্তাদের প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে পরিদর্শন প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। সেই সঙ্গে প্রতিটি কর্মকর্তাকে প্রতি মাসে অন্তত একটি হাসপাতাল পরিদর্শনের বাধ্যবাধকতা দেয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মিটফোর্ড হাসপাতাল, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালসহ বড় বড় বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পেয়েছেন।

যুগ্ম সচিব ও উপসচিব পর্যায়ের কর্মকর্তারা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলো তদারকি করবেন। তারা স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ চালাবেন।

সব কর্মকর্তাদের জন্য এ কাজ তাদের নিয়মিত দাপ্তরিক কাজের অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য হবে। আদেশ জারির পর থেকেই এটি কার্যকর করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের এই পদক্ষেপে কেন্দ্রীয় কর্মকর্তারা সরাসরি পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন। এর ফলে মাঠপর্যায়ের নানা সমস্যা ও প্রয়োজনীয়তার কথা দ্রুত কর্তৃপক্ষের নজরে আসবে।