জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে রাজধানীর মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় পুলিশের আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সিদ্দিক আজাদ এ আদেশ দেন।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপপরিদর্শক (এসআই) কফিল উদ্দিন মামুন খালেদের সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন এ তথ্য জানান।

মামুন খালেদ ২০০৭-০৮ সালের সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলের শেষ দিকে ডিজিএফআইয়ের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (সিআইবি) পরিচালক ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরও তিনি একই পদে ছিলেন। এরপর ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক হন তিনি। ২০১১-১৩ সাল পর্যন্ত ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক ছিলেন।

রাজধানীর একটি এলাকা থেকে গত বুধবার গভীর রাতে মামুন খালেদকে আটক করে ডিবি। এরপর তাকে মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন (৪০) হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, দেলোয়ার হোসেন জুলাই ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টিতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় এজাহারভুক্ত আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ৫০০-৭০০ জন আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের সন্ত্রাসী মামুন খালেদের নির্দেশে নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে দেলোয়ার হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন। তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ জুলাই দেলোয়ার মারা যান। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার মামলা করে। এ মামলার ঘটনার সঙ্গে মামুন খালেদের জড়িত থাকার বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটনসহ সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মামুন খালেদকে নিবিড়ভাবে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিনের রিমান্ড দরকার।

ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, শেখ মামুন খালেদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া ডিজিএফআইকে রাজনৈতিক কাজে সম্পৃক্ত করা, এক-এগারোর সময় তার বিতর্কিত ভূমিকা, জঙ্গি নাটকের প্রবক্তা, দুর্নীতির মাধ্যমে জলসিঁড়ি আবাসনের শতকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের মে মাসে শেখ মামুন খালেদ ও তার স্ত্রী নিগার সুলতানার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেন আদালত। তখন দুদক তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও সম্পদ-সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানের কথা জানিয়েছিল।

এদিকে এক-এগারোর আলোচিত সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গত সোমবার রাতে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। মানব পাচারের একটি মামলায় বর্তমানে তিনি পাঁচদিনের রিমান্ডে রয়েছেন।