সাপ্তাহিক ছুটির দিনে চার জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১০ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এর মধ্যে নীলফামারীতে চারজন, রাজবাড়ীতে তিন, নাটোরে দুই ও বরিশালে দুজন নিহত হয়েছেন। গতকাল এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত নয়জন। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে—

নীলফামারী: জেলার সৈয়দপুরে জ্বালানি তেলবাহী লরির ধাক্কায় মোটরসাইকেলে থাকা দুই সহোদর নিহত হয়েছেন। গতকাল দুপুরে নীলফামারী-সৈয়দপুর সড়কের ওয়াপদা নয়াবাজারে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন সদর উপজেলার সংগলশী ইউনিয়নের কাছারি শাহাপাড়ার ইলিয়াস হোসেনের ছেলে সুমন ইসলাম (২৭) ও সিয়াম হোসেন (২২)।

পুলিশ জানায়, মোটরসাইকেলে করে দুই সহোদর সৈয়দপুর শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে নয়াবাজারে বিপরীত দিক থেকে আসা লরির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন তারা। স্থানীয়রা তাদের সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে নেয়ার পথে দুজনই মারা যান।

সৈয়দপুর থানার ওসি শাহা আলম জানান, পুলিশ হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই স্বজনরা মরদেহ নিয়ে গেছেন।

অন্যদিকে জেলার কিশোরগঞ্জে ট্রাক ও মাইক্রোবাস সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। দুপুরে উপজেলার ধরেয়ার বাজারে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ডিমলা উপজেলার দক্ষিণ গয়াবাড়ী মাঝাপাড়া গ্রামের নুরল হকের ছেলে আনারুল ইসলাম (৪০) ও জলঢাকা উপজেলার দক্ষিণ চেরেঙ্গা হাজীপাড়া গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে মাজেদুল ইসলাম মতি (৪৫)।

পুলিশ জানায়, দুপুরে একটি মাইক্রোবাসে কিছু যাত্রী রংপুরে যাচ্ছিল। পথে কিশোরগঞ্জ উপজেলার ধরেয়ার বাজারে বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাকের সঙ্গে মাইক্রোবাসের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন মারা যান। আহত হয়েছেন আরো চারজন। তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ থানার ওসি পলাশ চন্দ্র মণ্ডল জানান, ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়েছে। আহতরা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

রাজবাড়ী: জেলা সদরের আহলাদিপুরে বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরো তিনজন। তাদের রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল ও ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। গতকাল সকাল ৯টার দিকে আহলাদিপুর টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন ট্রাকের হেলপার কুষ্টিয়ার মোহদিপুর এলাকার ইমরুলের ছেলে শাকিব ও রাজবাড়ী সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়নের মজলিসপুর গ্রামের বিএম নাজিম উদ্দিন। আহতরা হলেন রাজবাড়ীর শ্রীপুর গ্রামের রাজু ব্যাপারী, কল্যাণপুর গ্রামের ফিরোজা বেগম ও কুষ্টিয়ার মোহদিপুরের আবদুল সালাম।

পুলিশ জানায়, কুষ্টিয়া থেকে আমানত শাহ নামে একটি বাস ফরিদপুরে যাচ্ছিল। আহলাদিপুর টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের সামনে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এ সময় বাস ও ট্রাক সড়কের পাশে খাদে পড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই একজন মারা যান। অন্যজন রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এছাড়া ঢাকায় নেয়ার পথে আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে।

আহলাদিপুর হাইওয়ে থানার এসআই জুয়েল শেখ জানান, দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। আহতদের ফরিদপুর ও রাজবাড়ীতে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বৃষ্টি ও দ্রুতগতির কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

নাটোর: সদর উপজেলার গাজীরবিলে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলে থাকা দুই তরুণ-তরুণী নিহত হয়েছেন। গতকাল সন্ধ্যায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

হাইওয়ে পুলিশ জানায়, পাবনা থেকে রাজশাহীগামী একটি বাস সদর উপজেলার গাজীরবিলে বিপরীত দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলে থাকা তরুণ ও তরুণী ঘটনাস্থলেই মারা যান।

নাটোর সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা মরদেহ উদ্ধার করেছেন। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি আটক করা হয়েছে।

বরিশাল: জেলার গৌরনদী বাসস্ট্যান্ডে কাভার্ড ভ্যান ও পিকআপের সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো দুজন। গতকাল সকাল ৭টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার লক্ষ্মীপুরা গ্রামের আবু তালেবের ছেলে পিকআপচালক মাহিম (২০) ও বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধল ইউনিয়নের কবিরাজ এলাকার মৃত আবদুল ফকিরের ছেলে আলেক ফকির (৪৫)। আহতরা হলেন নিহত আলেক ফকিরের স্ত্রী আসমা বেগম (৩৫) ও তার শিশু সন্তান।

ফায়ার সার্ভিসের গৌরনদী স্টেশন অফিসার মো. বিপুল হোসেন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গাড়ির মধ্যে আটকে পড়া দুজনকে হাইড্রোলিক ইকুইপমেন্ট ব্যবহারের মাধ্যমে উদ্ধার করা হয়েছে।

গৌরনদী হাইওয়ে থানার এসআই কামরুজ্জামান জানান, ঢাকা থেকে বাড়ির আসবাবপত্র নিয়ে বাকেরগঞ্জে যাচ্ছিল পিকআপটি। পথে গৌরনদী বাসস্ট্যান্ডে কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে পিকআপচালক মাহিম ও পিকআপের যাত্রী আলেক ঘটনাস্থলেই নিহত হন। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি আটক করা হয়েছে।