পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুর ৩টার দিকে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। এর মধ্য দিয়ে পারমানবিক শক্তি ব্যবহারকারী ৩৩তম দেশ হলো বাংলাদেশ।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সব কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। কারণ নিরাপত্তাই বাংলাদেশের প্রথম অগ্রাধিকার। এ পারমাণবিক কেন্দ্র ঢাকা ও মস্কোর মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্ক আরো এগিয়ে নেবে।
প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, আজকের দিনটি বাংলাদেশের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে বাংলাদেশ আরও একধাপ এগিয়ে গেল।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা যাচাই ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধাপে ধাপে উৎপাদনে যাবে। দুটি ইউনিট মিলিয়ে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটের ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের মধ্যে ৩০০-৩৫০ মেগাওয়াট অর্থাৎ সক্ষমতার প্রায় ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ শুরুতে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। পরে ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়িয়ে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক কার্যক্রমে পৌঁছতে প্রায় ১০ মাস সময় লাগতে পারে।
এ বিষয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার (জ্বালানি লোডিং) তিন মাসের মধ্যে, অর্থাৎ জুলাইয়ের শেষ বা আগস্টের শুরুতে প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে এবং ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছানো হবে।’
পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে নির্মিত ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন (১ হাজার ২৬৫ কোটি) ডলারের এ প্রকল্পে রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হয়েছে। দুটি ইউনিট চালু হলে কেন্দ্রটি মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে, যা দেশের মোট চাহিদার ১০ শতাংশের বেশি পূরণ করবে।










