মুক্তির দাবিতে গাজীপুর কারাগারে বিক্ষোভ করেছেন কয়েদিরা। গতকাল সকাল ১০টায় তারা কারাগারের ভেতর বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় কারারক্ষীদের ছোড়া রাবার বুলেটে ১৩ বন্দি ও তিন কারারক্ষী আহত হয়েছেন।

কারাগার সূত্রে জানা গেছে, সকালে কারাগারের ভেতরে থাকা বন্দিরা বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের পালিয়ে যাওয়া ঠেকাতে কারারক্ষীরা গুলি করতে থাকেন। তবে এ বিষয়ে দায়িত্বশীল কোনো সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।

জয়দেবপুর-ঢাকা সড়কের পাশেই গাজীপুর কারাগারের অবস্থান। গত কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দির বিক্ষোভের খবর গাজীপুর জেলা কারাগারে বন্দিরা পান।

এর আগে বুধবার কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে বিক্ষোভ শুরু করেন বেশ কয়েকজন বন্দি। এর মধ্যেই সুযোগ বুঝে কারারক্ষীদের জিম্মি করে দেয়াল টপকে ২০৯ বন্দি পালিয়ে গেছেন। তাদের পালানো ঠেকাতে গুলি ছোড়েন কারারক্ষীরা। এতে ছয়জন নিহত হন। এদের মধ্যে হোলি আর্টিজান মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ তিন জঙ্গি রয়েছেন বলে কারাগার সূত্রে জানা গেছে।

গতকাল ছাত্র ও রাজনৈতিক মামলার জামিনপ্রাপ্ত আসামিদের মুক্তি দিলে সেখানে থাকা বন্দিরাও মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে রাবার বুলেট ছোড়া হয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে কারাগারের একটি সূত্রে জানা গেছে।

গাজীপুর কারাগারের চিকিৎসক ডা. মাকসুদা আক্তার বলেন, ‘প্রথমে সব শান্ত ছিল। তারপর যখন বন্দিরা বিক্ষোভ শুরু করল, তখন রাবার বুলেট ছুড়লে পাঁচ-ছয়জন অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল। তবে সিরিয়াস কিছু না, প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর তাদের জ্ঞান ফিরে এসেছে। অনেকের শরীরে রাবার বুলেটের আঘাত ছিল, ক্ষত স্থানে ড্রেসিং করে দিয়েছি। এরপর দেখলাম একজনের পর একজন আসছে। কারো চোখে আঘাত, কারো মাথায় আঘাত, কারো পায়ে আঘাত। হয়তো তাদের কাউ কাউকে সরকারি হাসপাতালে রেফার করা লাগতে পারে। এ পর্যন্ত ১৩ বন্দি ও তিনজন কারারক্ষী আহত হয়েছেন।’

এদিকে কয়েকদিনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুব্রত কুমার বালাকে প্রত্যাহার করেছে কারা অধিদপ্তর। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাজীপুর জেলা প্রশাসক আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম।

অন্যদিকে জামালপুর কারাগারেও বিক্ষোভ করেছেন বন্দিরা। এ সময় তারা পালানোর চেষ্টার পাশাপাশি কারাগারের ভেতরে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গতকাল দুপুর থেকে কারাগারের ভেতর বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। এ সময় গুলির শব্দ শোনা যায়।

কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগের পর থেকে কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দিদের বিক্ষোভের খবর জামালপুর জেলা কারাগারের বন্দিরা পান। এরপর থেকে তারাও বিক্ষোভ শুরু করেন। এরই মধ্যে ছাত্র ও রাজনৈতিক মামলার জামিনপ্রাপ্ত আসামিদের মুক্তি দিলে সেখানে থাকা বন্দিরাও মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে রাবার বুলেট ছোড়া হয়।