এক দফা দাবিতে আজ রোববার (৪ আগস্ট) সারাদেশে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সকাল ১০টার পর থেকেই ঘোষিত এ কর্মসূচির ব্যাপক প্রভাব পড়তে দেখা গেছে নওগাঁয়। শহরের কাজীর মোড়ে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর পাশাপাশি এবার তাদের আন্দোলনে যোগ দিয়েছে অভিভাবকরাও।
এ সময় আন্দোলনকারীরা সড়ক অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সমস্বরে ‘তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার’, ‘চেয়েছিলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার’, ‘কে বলেছে কে বলেছে, স্বৈরাচার স্বৈরাচার’, ‘দফা এক দাবি এক, শেখ হাসিনার পদত্যাগ’, ‘এক দুই তিন চার, খুনি হাসিনা গদি ছাড়’, ‘আমার ভাই মরলো কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘দিয়েছি তো রক্ত, আরো দেবো রক্ত’, ‘রক্তের বন্যায়, ভেসে যাবে অন্যায়’, 'এই মুহুর্তে দরকার, সেনাবাহিনীর সরকার'সহ বিভিন্ন সরকার বিরোধী স্লোগান দিতে দেখা যায়।
আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, সরকারের কাছে যৌক্তিক দাবি উত্থাপন করেছিলাম। অথচ সেই দাবি আদায়ের বিপক্ষে আমাদের শত শত ভাইবোন গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। কয়েক হাজার শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাই এখন আর কোনো আপস বা সংলাপের সুযোগ নেই। এই সরকার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আমরা সেনাবাহিনীর সরকার চাই।
আন্দোলনে উপস্থিত শিক্ষার্থী ইফতেখার রহমান ও তানভীর শিহাব বলেন, গতকাল শনিবার (৩ আগস্ট) নওগাঁয় আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে। পুলিশ তাদেরকে প্রতিহত করার বিপরীতে আমাদের ভাই-বোনদের লক্ষ্য করে রাবার বুলেট এবং টিয়ারশেল ছুঁড়েছে। এই স্বৈরাচার সরকারের দালাল পুলিশ আমাদের আর একটি ভাই-বোনদের ওপর গুলি চালালে এর চরম মূল্য দিতে হবে। এই সরকারের পতন আমরা ঘটিয়েই ছাড়বো।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নওগাঁয় নেতৃত্ব দেয়া ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী আরমান হোসেন বলেন, গতকাল সারারাত ফেসবুকে গুজব ছড়িয়েও শিক্ষার্থীদের ঢল আটকাতে পারেনি আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সন্ত্রাসীরা। আমাদের আন্দোলনে সাধারণ মানুষও অংশগ্রহণ করেছে। এক দফা দাবিতে রাস্তায় যেহেতু নেমেছি, এই সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি করলে তাদেরকে বাধা দেয়া হবে না। তবে কিছু দুষ্কৃতিকারী তাদের কর্মসূচির ভেতর মিশে আছে এমন তথ্য আমরা পেয়েছি। জনগণের জানমাল রক্ষায় পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কেউ পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে ছাড় দেয়া হবে না।










