মাছ উৎপাদন বাড়াতে ও চাষ সম্প্রসারণে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার কোর্টপাড়ায় মিনি মৎস্য হ্যাচারি তৈরি করে মৎস্য অধিদপ্তর। রেণু উৎপাদনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও জনবল সংকটে এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। প্রায় এক দশক ধরে বন্ধ রয়েছে রেণু উৎপাদন। এ অবস্থায় দূর-দূরান্ত থেকে রেণু সংগ্রহ করতে হচ্ছে খামারিদের। এতে মাছ চাষে ব্যয় বাড়ছে বলে জানিয়েছেন তারা।
মাছচাষীরা বলছেন, হ্যাচারিটি বন্ধ থাকায় তারা বড় ধরনের সমস্যায় পড়েছেন। দূর-দূরান্ত থেকে বাড়তি দামে রেণু সংগ্রহ করতে হচ্ছে তাদের।
মাছচাষী আয়ুব আলী বলেন, ‘এখানে যদি আগের মতো রেণু পাওয়া যেত, তাহলে আমাদের খরচ অর্ধেক কমে যেত। এখন ঝিনাইদহ শহর বা পাশের জেলা থেকে রেণু আনতে বাড়তি টাকা লাগছে, সময়ও নষ্ট হচ্ছে।’
আরেক চাষী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘হ্যাচারি বন্ধ থাকায় এলাকার চাষীরা সুবিধাবঞ্চিত হচ্ছেন। সরকার যদি আবারো এটি চালু করে তাহলে স্থানীয়ভাবে ভালো মানের পোনা পাওয়া যাবে। এতে মাছ উৎপাদনও বাড়বে।’
মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শৈলকুপা উপজেলার কোর্টপাড়ায় ১৯৮২ সালে তৈরি করা হয় মিনি মৎস্য হ্যাচারি। প্রায় চার দশক আগে প্রতিষ্ঠিত হ্যাচারিটি রেণু উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এখন তা পরিত্যক্ত। শুরুর দিকে স্বল্প পরিসরে রেণু উৎপাদন হলেও মান নিয়ে চাষীদের অভিযোগ বাড়তে থাকায় ধীরে ধীরে কমে আসে এর চাহিদা। ১৯৮৬ সালের দিকে পুরো হ্যাচারি বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০১৫ সালে মৎস্য বিভাগ আবারো কিছুদিনের জন্য রেণু উৎপাদন কার্যক্রম চালু করে। কিন্তু জনবল সংকট ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনার অভাবে একই বছরের শেষ দিকে হ্যাচারিটি আবারো বন্ধ হয়ে যায়। পড়ে থাকায় অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, হ্যাচারিটি চালু থাকলে প্রতি মৌসুমে অন্তত ৪০ কেজি রেণু উৎপাদন করা সম্ভব। যা থেকে পোনা উৎপাদন হবে ৪০ লাখের বেশি।
এ ব্যাপারে শৈলকুপা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন বলেন, ‘পর্যাপ্ত জনবল ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না থাকায় হ্যাচারিটি পরিত্যক্ত ছিল। ২০২৪ সালে একটি বরাদ্দের মাধ্যমে হ্যাচারিটি সংস্কার করা হয়েছে। এ বছর থেকেই রেণু উৎপাদন করা হবে বলে আশা করছি।’










