তারা বলেছেন, তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। এটি শুধু প্রযুক্তিগত বিষয় নয়; মানুষের সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সামাজিক অংশগ্রহণ ও পারস্পরিক গঠনমূলক যোগাযোগের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

গতকাল রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত ‘ইনফরমেশন ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড সোশ্যাল কোহেশন ইন বাংলাদেশ: পলিসি, প্লাটফর্ম অ্যাকাউন্টেবিলিটি অ্যান্ড কালেক্টিভ অ্যাকশন’ শীর্ষক সংলাপে তারা একথা বলেন। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছে।

সংলাপে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা ও সামাজিক সংহতি নিশ্চিত করা সবার যৌথ দায়িত্ব। সঠিক, নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে মানুষ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে, সমাজে অর্থবহভাবে অংশ নিতে পারে এবং পরস্পরের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যুক্ত হতে পারে।’

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), প্রযুক্তি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি এর নেতিবাচক প্রভাব ও অপব্যবহার রোধে নীতিনির্ধারণ ও সচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, ‘ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর অ্যালগরিদম ও প্লাটফর্ম মূলত ব্যবসার উদ্দেশে পরিচালিত হয়, জনকল্যাণের জন্য নয়। সাধারণ মানুষের হাতের মুঠোয় থাকা ইন্টারনেট এবং সামাজিক মাধ্যমের এ ব্যবসায়িক স্বার্থ একত্রে এক জটিল বাস্তবতার জন্ম দিয়েছে। এ ইকোসিস্টেমের সুযোগ ও চ্যালেঞ্জগুলোকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির আশীর্বাদকে সঙ্গে নিয়ে পথ চলার মাধ্যম আমাদেরই খুঁজে বের করতে হবে।’

অনুষ্ঠানের প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী বলেন, ‘কনটেন্ট মডারেশনের ক্ষেত্রে বিটিআরসি নিজে কোনো কনটেন্টের বিচার করে না। কোনো কনটেন্টকে ক্ষতিকর বা বিদ্বেষপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে অভিযোগ করা হলে বিটিআরসি অনুমোদিত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও অন্যান্য সংস্থার ওপর নির্ভর করে এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করে। আধুনিক গণতন্ত্রে কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে একটি হাইব্রিড ব্যবস্থা প্রয়োজন। রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করবে, প্লাটফর্ম সহনিয়ন্ত্রণ করবে এবং সুশীল সমাজও এতে ভূমিকা রাখবে।’

ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিকস বলেন, ‘তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা এখন আর শুধু প্রযুক্তিগত বিষয় নয়। ডিজিটাল প্লাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তথ্য যেভাবে মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে, এর প্রভাব সমাজে গভীরভাবে পড়ছে।’ বাংলাদেশেও ভুল তথ্য, বিকৃত কনটেন্ট ও অনলাইন ক্ষতির বাস্তব নেতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক নির্বাচনকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা ৫ হাজার ১৩৯টি পোস্টের ৪৪ শতাংশে ভুল বা বানোয়াট তথ্য ছিল।’

তাই আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শুধু পর্যবেক্ষণ ও আগাম শনাক্তকরণ যথেষ্ট নয়। শনাক্তকরণকে প্রতিরোধ, ব্যবস্থা গ্রহণ ও প্রতিকারের সঙ্গে আরো কার্যকরভাবে যুক্ত করতে হবে। প্লাটফর্মগুলোর আরো বেশি জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা প্রয়োজন।’

দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম একটি নতুন জগৎ তৈরি করেছে এবং এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে গণতান্ত্রিক করেছে। তবে স্বাধীনতা যত বাড়ে, দায়িত্বও তত বাড়ে। কথা বলার স্বাধীনতার পাশাপাশি তথ্য যাচাইয়ের দায়িত্বও রয়েছে। এখন একটি ভুল তথ্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং দাবানলের মতো বিস্তার লাভ করে। তাই আরো বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে। এক্ষেত্রে ফ্যাক্টচেকিং একটি নতুন পেশা হিসেবে বিকশিত হচ্ছে এবং এ ধরনের পেশাজীবীদের আরো প্রয়োজন।’