পিরোজপুরের কচা নদীর ওপর নির্মিত অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর উদ্বোধন আজ। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের নামে এ সেতুর নামকরণ করা হয়েছে। আজ সকাল ১০টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেতুটির উদ্বোধন করবেন। সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে পিরোজপুর সদর উপজেলার কুমিরমারা প্রান্তে ও কাউখালী উপজেলার বেকুটিয়া প্রান্তে দুটি প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছে। সড়কের পাশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি  কৃতজ্ঞতা জানিয়ে টানানো হয়েছে ব্যানার ও ফেস্টুন। এ উপলক্ষে জেলায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

পিরোজপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ জাহেদুর রহমান জানান, আশা করছি পিরোজপুরের কুমিরমারা প্রান্তে ১০ হাজার আর কাউখালীর বেকুটিয়া প্রান্তে ১০ হাজার মানুষ উপস্থিত হয়ে সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপভোগ করবে। এজন্য পিরোজপুরের কুমিরমারা প্রান্তে সাতটি ও কাউখালীর বেকুটিয়া প্রান্তে পাঁচটি এলইডি টিভি স্থাপন করা হয়েছে। 

জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে সেতুটির নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন। ৯৯৮ মিটার দৈর্ঘ্যের ও ১৩ দশমিক ৪০ মিটার প্রস্থের সেতুতে ১০টি পিয়ার ও নয়টি স্প্যান রয়েছে।

৮৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে চায়না রেলওয়ে ১৭ ব্যুরো গ্রুপ লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান সেতুটি নির্মাণ করেছে। এর মধ্যে ৬৫৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা চীন সরকার এবং বাকি অর্থ বাংলাদেশ সরকার দিয়েছে। গত ৭ আগস্ট ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই সেতুর হস্তান্তর সনদ চুক্তিতে সই করেন।

পিরোজপুর সদর উপজেলার কুমিরমারা এলাকার বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম জানান, সেতুটি চালুর পর বরিশালের সঙ্গে খুলনার সড়ক যোগাযোগে কোনো ফেরি থাকবে না।

সেতুর উদ্বোধনী স্থান পরিদর্শন শেষে পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম  বলেন, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি আনন্দঘন পরিবেশে জেলার মানুষ সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপভোগ করত পারবে।

শ ম রেজাউল করিম বলেন, উন্নয়নের পূর্বশর্ত উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। পিরোজপুরে কৃষিজ পণ্যসামগ্রী আছে যেটা শিল্পে, অর্থনৈতিক উন্নয়নে, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। কিন্তু আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল বিপন্ন। মাওয়াঘাটে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, দিনের পর দিন বসে থাকতে হতো। পিরোজপুর জেলাকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিল কচা নদী। আমাদের দুটি  উন্নয়ন প্রকল্প এ অঞ্চলের মানুষের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।