কাজের ন্যায্য মজুরি না পাওয়ার প্রতিবাদে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে কর্মবিরতি পালন করছেন বন্দরের শ্রমিকরা। শ্রমিকদের কর্মবিরতির ফলে গতকাল সকাল থেকে বন্ধ হয়ে যায় স্থলবন্দরের ভেতরে পণ্য লোড-আনলোডসহ সব কার্যক্রম। ফলে বিপাকে পড়েন আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

শ্রমিকদের অভিযোগ, হিলি স্থলবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পানামা হিলি পোর্ট দীর্ঘদিন ধরে তাদের ন্যায্য মজুরি দিচ্ছে না। বন্দরের শ্রমিক হাফিজুর রহমান বলেন, ‘শুরুর দিকে কিছুদিন ন্যায্য মজুরি পেলেও এর পর থেকেই আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। বারবার লেবার সর্দারদের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও বিষয়টির কোনো সমাধান হয়নি।’

আরেক শ্রমিক সেকেন্দার আলী বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করলেও প্রতি টনে মাত্র ১৩ টাকা পাই। অথচ আমদানিকারকের কাছ থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষ ৭৩ টাকা নেয়। বিশেষ কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে বিল ডাবল হয়ে যায়। কেন এ বৈষম্য? কেউ কখনো এর সমাধান করেনি। ন্যায্য মজুরির দাবি আদায় হওয়ার আগ পর্যন্ত আমাদের কর্মবিরতি চলবে।’

শ্রমিকদের কর্মবিরতির ফলে বন্দরসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা পড়েছেন বিপাকে। হিলি বন্দরে আসা পাইকার রামপ্রসাদ বলেন, ‘আমি সকালে মসুর ডাল নিতে এসেছিলাম। কিন্তু শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে তা লোড করতে পারিনি। এতে আজ আমাকে ট্রাকের ড্যামারেজ হিসেবে অতিরিক্ত ৩ হাজার টাকা গুনতে হবে।’

এ বিষয়ে পানামা পোর্টের লেবার সর্দার আলম বলেন, ‘শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে মজুরি বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু তা কার্যকর না হওয়ায় তারা কর্মবিরতিতে গেছেন। বিষয়টি পানামা পোর্টের এমডিকে জানানো হয়েছে। তিনি এসে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন।’

পানামা পোর্টের অপারেশন ম্যানেজার অসিত কুমার শ্যানাল জানান, ‘শ্রমিকদের কর্মবিরতির বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পোর্টের এমডি শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।’