চট্টগ্রাম ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে ২০০৯ সালে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান একেএম ফজলুল্লাহ। সেখান থেকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে অষ্টমবারের মতো চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে দেশে অনেককেই পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হলেও চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থা পরিচালকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তবে রুটিন ওয়ার্কের বাইরে তিনি কোনো কাজ করছেন না। অফিস খোলা থাকলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও কাজ করতে দেখা যাচ্ছে না। এতে অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে ওয়াসার কার্যক্রম।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে এভাবে কাউকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া প্রতিষ্ঠানের জন্য ভালো নয়। এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের অভিযোগ, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়ে গত ১৫ বছরে অনেক অনিয়ম করেছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম ফজলুল্লাহ রোববার থেকে অফিসে এলেও নতুন করে কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি। অফিসে রুটিন ওয়ার্ক করেছেন শুধু। চলমান সংকটে ওয়াসা কীভাবে পরিচালিত হবে, পরবর্তী সময়ে কীভাবে পরিচালিত হবে—এমন কোনো নির্দেশনাও আসেনি তার কাছ থেকে। এভাবে চলতে থাকলে চট্টগ্রাম ওয়াসা বড় ধরনের সংকটের মধ্যে পড়বে। হয়তো তিনি নিজেও এ পদে থাকছেন না, বিষয়টি আঁচ করতে পেরে চুপচাপ বসে আছেন বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এখন ওয়াসা ভবনে কাজও কমে গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরো কিছু সময় লাগবে।

তবে এ কে এম ফজলুল্লাহ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ আর চট্টগ্রাম ওয়াসার নিয়োগের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। চট্টগ্রাম ওয়াসা পরিচালিত হয় ১৯৯৬ সালের ওয়াসা আইন দ্বারা। সেখানে সরকার চট্টগ্রাম ওয়াসা বোর্ডের সঙ্গে চুক্তি করে এমডি নিয়োগের জন্য। বোর্ড থেকে আমাকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছিল। এখন যদি চুক্তি বাতিল করতে হয়, তাহলে বোর্ডের অনাস্থা জারি করতে হবে। বোর্ড থেকে যদি আমাকে পদত্যাগের জন্য প্রস্তাব তোলা হয় তাহলে আমি পদত্যাগ করব।’

তিনি আরো বলেন, ‘চট্টগ্রাম ওয়াসার কাজ নয়—এমন কয়েকটি প্রকল্প এখনো যুক্ত করা হয়েছে। চাঁদপুর থেকে মিরসরাই ইকোনমিক জোনে পানি সরবরাহ এবং সেই পানি সীতাকুণ্ড পর্যন্ত সম্প্রসারণ প্রকল্প, ভাণ্ডালজুড়ি পানি শোধনাগার প্রকল্পটি মাতারবাড়ী পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব চট্টগ্রাম ওয়াসাকে দেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম নগরীর পানি সরবরাহ আমার সময় কয়েকগুণ বেড়েছে। কিছু জায়গায় দেয়া সম্ভব হয়নি, তবে সেগুলো নিয়েও আমরা কাজ করছি। রাজনৈতিক লেজুরবৃত্তি না থাকায় চট্টগ্রাম ওয়াসার অবস্থা ঢাকার মতো হয়নি। যেভাবে আমি গত ১৫ বছর কাজ করেছি, তাতে ঈর্শান্বিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তবে ওয়াসার বোর্ড বেশির ভাগ সদস্য যদি আমাকে পদত্যাগ করতে বলেন, তাহলে আমি পদত্যাগ করব।’

এ প্রসঙ্গে নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়া বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম ওয়াসার চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগের কারণে সংকট তখন তৈরি হবে, যদি তিনি পদে যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে না পারেন। যোগ্যতা সম্পন্ন মানুষ হলে ১৫ বছর বা ২০ বছর থাকলেও কোনো সমস্যা হবে না। ওয়াসার এমডি তার মেয়াদে কোনো অনিয়ম করেছেন কিনা সেটা প্রমাণ করতে হবে। যদি সেটা প্রমাণিত হয় তাহলে সরকার তাকে সরিয়ে দিতে পারে। তবে আমাদের দেশে শুরু থেকেই বড় পদগুলোয় রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তারা বড় বড় প্রকল্পগুলো উন্নয়ন মনে করে। এটা আমাদের জন্য মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিডিএ, সিটি করপোরেশন কিংবা ওয়াসার মতো জায়গায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়োগ দিলে প্রকল্পের কাজগুলো আরো ভালোভাবে সমন্বয় করা সম্ভব হতো।’