বগুড়ার গাবতলী উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নে শেষ হয়েছে পোড়াদহ মেলা। প্রায় ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এ মেলায় উঠেছে ৫০ কেজি ওজনের পাখি মাছ। ৩০ কেজি ওজনের কাতল ও ২৫ কেজি ওজনের গ্রাস কার্পসহ বিভিন্ন আকারের বড় বড় মাছ। এর সঙ্গে ছিল ১২ কেজি ওজনের মিষ্টি। গতকাল এ মেলায় শুধু মাছ বিক্রি করেই ৬ কোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছে বলে দাবি আয়োজক কমিটির।

মাছ ব্যবসায়ী শাহারুল ইসলাম জানান, মেলায় রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, জয়পুরহাট, বগুড়া, গাইবান্ধা, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ থেকে ব্যবসায়ীরা বড় মাছ নিয়ে আসেন। তার দোকানে ১২ কেজি ওজনের রুই, ১৮ কেজি সিলভার কার্প বিক্রি করেছেন।

মেলা আয়োজকরা জানান, পোড়াদহ মেলাকে স্থানীয় ভাষায় জামাই মেলা বা মাছের মেলা বলা হয়। সে কারণে আশপাশের গ্রামগুলোয় মেয়ে ও জামাইদের নিমন্ত্রণও করা হয়। জামাইরা বড় বড় মাছ কিনে শ্বশুরবাড়িতে যাওয়াটাই এ এলাকার ঐতিহ্য। এবারের মেলায় ৪০ ও ৫০ কেজি ওজনের পাখি মাছ উঠেছে। ৪০ কেজি ওজনের পাখি মাছ এনেছেন টাঙ্গাইলের শরীফ তালুকদার। তিনি কক্সবাজার থেকে সংগ্রহ করেছেন মাছটি। প্রতি কেজি ২ হাজার টাকা হিসেবে মাছটির দাম হাঁকিয়েছেন ৮০ হাজার টাকা। ৫০ কেজি ওজনের পাখি মাছ এনেছেন বগুড়ার রূপালী ট্রেডার্সের মালিক আনোয়ারুল হক স্বাধীন। তিনি চট্টগ্রাম থেকে মাছটি নিয়ে এসেছেন। ৩ হাজার টাকা কেজি দরে মাছটি বিক্রি করছেন তিনি।

মাছ ব্যবসায়ী আব্দুল বাছেদ জানান, মেলায় ২৫ কেজি ওজনের গ্রাসকার্প, ১২ কেজি রুই, ৩০ কেজি কাতল, ১৮ কেজি চিতল, ১৪ কেজি বোয়াল, ১৩ কেজি বিগ হেড, ৮ কেজি ব্লাড কার্প, ২২ কেজি সিলভার কার্প ও সামুদ্রিক মাছ উঠেছে। আকার ও ওজনভেদে  কাতল ৪০০-৮৫০ টাকা, বিগ হেড ৩০০-৫০০, সিলভার কার্প ৩৫০-৪৫০, বোয়াল ১০০০-১৪০০, চিতল ১৪০০-১৫০০, গ্রাসকার্প ৩৫০-৪৮০, পাঙাশ ৩৫০-১০০০, রুই ৩৫০-১০০০,  ব্লাডকার্প ৪০০-৭০০ ও আইড় মাছ ১৮০০-২০০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

মেলা কমিটির সভাপতি আব্দুল মজিদ মণ্ডল জানান, মেলায় এবার ৬০০টির মতো মাছের দোকান ছিল। প্রতিটি দোকানে গড়ে ১ লাখ টাকার মাছও ধরা হলে ৬ কোটি টাকা দাঁড়ায়।