শেষ
হয়েছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, কিন্তু এখনো ঝিনাইদহ জেলা শহর ও বিভিন্ন উপজেলায়
ঝুলছে প্রার্থীদের পোস্টার। যার অধিকাংশই লেমিনেটিং। নির্বাচন শেষ হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে
প্রার্থীর নিজ উদ্যোগে পোস্টার অপসারণের নিয়ম থাকলেও কেউ সে আইন মানছেন
না। পোস্টারগুলো পলিথিন দিয়ে মোড়ানোর কারণে সহজে নষ্ট হচ্ছে না। দ্রুত এসব পোস্টার অপসারণ করে পুড়ে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন পরিবেশবিদরা।
ঝিনাইদহ শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শহরের কেন্দ্রস্থল পায়রা চত্বরের চারপাশে ঝুলছে শত শত পোস্টার। রশিতে টাঙানো অধিকাংশ পোস্টার। বাতাসে ছিঁড়ছে না বা শিশিরেও ভিজে নষ্ট হচ্ছে না। অপসারণ করা হয়নি পাশের বঙ্গবন্ধু সড়কের পোস্টার। দোকানের সামনে রাস্তার দুই পাশ দিয়ে ঝুলছে হাজার হাজার পোস্টার। কোথাও কোথায় রশি ছিঁড়ে রাস্তার পাশে পড়ে আছে পোস্টারগুলো। শুধু জেলা শহরই নয়। চারটি সংসদীয় আসনে এখনো ঝুলছে ব্যানার ও পোস্টার।
শহরের আরাপপুরের বাসিন্দা রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচন শেষ হয়েছে ৭ জানুয়ারি, কিন্তু এখনো ব্যানার ও পোস্টার অপসারণ করা হয়নি। শহরজুড়ে হাজার হাজার পোস্টার লাগানো রয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষ বা কোনো প্রার্থী পোস্টার অপসারণ করেননি। এতে শহরের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে।
ঝিনাইদহ জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ সংরক্ষণ কমিটির সদস্য সচিব সিনিয়র সাংবাদিক মিজানুর রহমান বলেন, ‘ব্যানার ও পোস্টারগুলো বেশির ভাগই লেমিনেটিং করা। এগুলো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। পোস্টার নদীতে গেলে ভরাট হবে। আর ড্রেনে পড়লে পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা নষ্ট হবে।’
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ পৌরসভার মেয়র কাইয়ুম শাহরিয়ার জাহেদী হিজল বলেন, ‘দুই-তিনদিনের মধ্যে ব্যানার ও পোস্টার অপসারণ করে ডাম্পিং স্টেশনে পুড়িয়ে ফেলব। কারণ এগুলো সবুজ ঝিনাইদহ গড়ার অন্যতম অন্তরায়।’
ঝিনাইদহ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মুনতাছির রহমান বলেন, ‘নির্বাচন শেষ হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রার্থীরা তাদের ব্যানার বা পোস্টার সরিয়ে ফেলবেন এমন একটা নিয়ম রয়েছে। কিন্তু আমরা খেয়াল করছি নির্বাচন শেষ হলেও সেগুলো অপসারণ করা হয়নি। যেগুলো লেমিনেটিং করা সেগুলো পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর। ঝিনাইদহের ছয়টি পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেব, তারা যেন দ্রুত এসব পোস্টার অপসারণ করে।’










