অবশেষে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা, লক্ষ্মীপুর ও বোগলাবাজার ইউনিয়নের সাত হাজার হেক্টর জমিতে চাষাবাদের জন্য রাবার ড্যামের সংস্কারকাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের টিলাগাঁও গ্রামে এ রাবার ড্যাম সংস্কারকাজ চলছে। দীর্ঘ ছয় বছর পর এবার ওই এলাকার অনাবাদি জমিতে বোরো আবাদ হবে। এতে হাসি ফুটেছে কৃষকদের মাঝে। 

২০১৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর ‘বাঁধের ভাঙনে অকেজো রাবার ড্যাম, এবারো অনাবাদি সুনামগঞ্জের সাত হাজার হেক্টর জমি’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর নড়েচড়ে বসে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও পাউবো। এই দুই দপ্তরের মতামতে অবশেষে পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন রোধে প্রকল্প গ্রহণ করে। তবু কাজ শুরু করতে দুই বছর পার হয়ে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন রাবার ড্যাম বিধ্বস্ত ছিল। রাবার ড্যামটি ছিল এলজিইডির এবং রাস্তা ছিল পাউবোর। রাবার ড্যামের জন্য বাঁধের ভাঙনটি এলজিইডি বাস্তবায়ন করার কথা ছিল। পরে এলজিইডি ও পাউবো দুই দপ্তরের মতামতের ভিত্তিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (পওর-২) মো. শামসুদ্দোহার চেষ্টায় ভাঙন রোধে কাজ শুরু হয়েছে। কাবিটা নীতিমালা-২০১৭ (সংশোধিত) অনুযায়ী রাবার ড্যামটি সংস্কারের জন্য ২০২১-২২ অর্থবছরে ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ লাখ ২০ হাজার টাকা। ১৫ ডিসেম্বর থেকে উপজেলার খাসিয়ামারা নদী রাবার ড্যামের ভাঙনে কাজ চলছে। ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে।

মিরপুর গ্রামের হানিফ আলী বলেন, ভাঙনের জন্য তিনটি ইউনিয়নের মানুষ  খুব ভোগান্তিতে ছিলাম। গাড়ি চলাচল ছিল না। হেঁটে চলতে হয়। কিছু দিন ভাঙনকবলিত স্থানে কাজ চলছে। এতে এলাকাবাসীর ভোগান্তি কমবে।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কলিম উদ্দিন বলেন, ভাঙনের জন্য অনেক কষ্টে ছিলাম। জমিতে ধান থেকে শুরু করে কৃষিকাজ করা যেত না। ধান লাগালেই প্রতি বছর বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হতো।

স্থানীয় সুরমা ইউনিয়নের সাবেক সদস্য কৃষক নুরুল ইসলাম বলেন, ‘রাবার ড্যামের ভাঙনে এ এলাকার মানুষের ফসলি জমিগুলো এখন বিলুপ্তির পথে। প্রতি বছর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি আমরা। ড্যামটি সংস্কার করা হচ্ছে। তবে সংস্কারকাজে যেনো কোনো অনিয়ম না হয় সেজন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

দোয়ারাবাজার উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আবু সায়েম সাফিউল ইসলাম বলেন, এলজিইডি ও আমাদের দুই দপ্তরের মতামতের পর দুর্ভোগ লাঘব ও বোরো ধান রক্ষায় একটি প্রকল্প নেয়া হয়। স্থানীয় কৃষক দ্বারা কমিটি করে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ২০ লাখ ২০ হাজার টাকা। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ কাজ শেষ করতে হবে।