এ ঘটনায় র‍্যাবের ৮-১০ জন সদস্য আহত হয়েছেন। গতকাল রাতে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজিরপাড়া ফুটবল খেলার মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় এক শীর্ষ মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব। আটক ব্যক্তির নাম ফরিদুল আলম ওরফে মেহেদী হাসান। তিনি টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজিরপাড়া এলাকার সিদ্দিক আহমেদের ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে র‍্যাব-১৫ টেকনাফ সিপিসি-১-এর স্কোয়াড কমান্ডার সোহেল রানা জানান, নাজিরপাড়ায় মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে র‍্যাবের একটি সুনির্দিষ্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মাদক কারবারি ও তাদের সহযোগীরা র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালায় এবং র‍্যাবের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তিনি নিজেসহ ৮-১০ জন সদস্য আহত হন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘‌ঘটনাস্থল থেকে এক শীর্ষ মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদক ও হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ওই সময় নাজিরপাড়া ফুটবল মাঠে স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত একটি ইফতার মাহফিল চলছিল। সেখানে উপস্থিত সদর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ফরিদ আলমকে র‌্যাব সদস্যরা আটক করলে এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কিছু লোক র‍্যাবের ওপর হামলা চালায় এবং মোটরসাইকেলে আগুন দেয়। খবর পেয়ে টেকনাফ মডেল থানার পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনা স্বীকার করে টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘‌র‍্যাবের অভিযানের সময় ওই এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। র‌্যাব অভিযোগ দিলে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এদিকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক দেবাশীষ সরকার জানান, আহত অবস্থায় র‍্যাবের সাত সদস্যকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে আটক ফরিদ আলমের বাবা সিদ্দিক দাবি করেন, আমাদের ইফতার মাহফিলের সময় সাদা পোশাক ১০-১৫ র‍্যাবের সদস্য কোনো কথা ছাড়া আমাদের ঘিরে ফেলে। এ সময় স্থানীয় জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে চিৎকার শুরু করে। এতে তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়।

তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে ফরিদ আলমের বিরুদ্ধে কোনো মামলার ওয়ারেন্ট নেই। মূলত আমাদের হয়রানি করতে আমরা কোনো গাড়িতে আগুন দেইনি।’